জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

গণসংযোগে মুখরিত ফেনীর ১ আসন নির্বাচন নয় যেন উৎসব

বিশেষ প্রতিনিধি

ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী, ছগলনাইয়া) আসনে নিজ দলের প্রতীক নৌকার প্রার্থী পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খুশির জোয়ার বইছে। পরিবেশ দেখলে মনে হয় উৎসব চলছে। দশ বছর পর ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী, ছগলনাইয়া) আসনে নিজ দলের প্রতীক নৌকার প্রার্থী পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খুশির জোয়ার বইছে। দশ বছর পর ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী, ছগলনাইয়া) আসনে নিজ দলের প্রতীক নৌকার প্রার্থী পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খুশির জোয়ার বইছে। এ জোয়ারে কোন দল মতের বেঁধাবেদ নেই। সকল স্তরের মানুষের অংশ নিয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। এর আগে একই আসনে গত দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক দল জাসদের শিরিন আক্তার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবারও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম কমলের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার।

এদিকে একইদিন ফেনী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ফেনী শহর থেকে বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকার পরশুরাম গুথুমা নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে আনন্দপুর, নতুন মুন্সির হাট, পুরাতন মুন্সীর হাট, ফুলগাজী, চিথলিয়া ও পরশুরাম প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে নেতাকর্মীরা মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানে স্লোগানে প্রার্থীকে বরণ করেন। প্রার্থী নাসিমও নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রাতে নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌছলে সেখানে নেতাকর্মীদের ঢল নামে। স্বাধীনতার বায়ান্ন বছর পর নিজের দলের পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ নেতা হিসেবে পরিচিত আলা উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের আনন্দের সীমা নেই। দলে দলে নেতাকর্মীরা প্রার্থীর সাথে দেখা করছেন। অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তারা রীতিমত এখনই ভোট উৎসবে মেতে উঠেছেন।

সোমবার রাতে নৌকার ঝান্ডা হাতে ফেনী-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলা উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ফেনী আসেন। এ সময় তিনি হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভালোবাসায় সিক্ত হন।

ফেনী-১ আসনটিতে স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সাংবাদিক এবিএম মূসা নির্বাচিত হন। এরপর লে. কর্নেল জাফর ইমাম (অব.) ৭৯’তে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ১ বার, ৮৬ ও ৮৮’তে জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকে ২ বার, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচিত ৬ বারের মধ্যে ২০০১ ও ২০০৮ সালে আসন ছেড়ে দেয়ার পর তার ছোট ভাই মেজর সাইদ ইসকান্দর (অব.), উপ নির্বাচনে নির্বাচিত হন। ২০১৩ ও ২০১৮ সালে মহাজোটের শরীক দল জাসদের শিরিন আক্তার ২ বার নির্বাচিত হন।

ফেনীর পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, আমাদের নেতা নাসিম ফেনীর উত্তরাঞ্চলসহ জেলার উন্নয়নের রূপকার। ক্নিন ইমেজের মানুষটি নির্বাচিত হলে ফেনীর রাজনীতির চিত্র পাল্টে যাবে। ফেনী-১ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দফায় দফায় নির্বাচিত হয়েও কোন উন্নয়ন করেনি। মহাজোটের জাসদ নেত্রী শিরিন আক্তারও ২ দফা নির্বাচিত হয়ে ফেনীর উত্তরাঞ্চলের মানুষে ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি। এবার প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আমাদের আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম উপহার দিয়েছেন। আমরা দলমত নির্বিশেষে তাকে আসনটি উপহার দেবো।
এদিকে মঙ্গলবার জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় পার্টিও তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আমরাও করেছি।এর অংশ হিসেবে জাসদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি। আমরা জোটবদ্ধ নির্বাচন করছি। সমঝোতা নিয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত হলে পরিপূর্ণ চিত্র দেখাতে পাবেন।
ফেনীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ আলাউদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী নাসিম ছাত্রজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে বিসিএস পাস করে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর তার এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পান নাসিম। ওয়ান-ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার পক্ষে সাহসী অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত হন। ২০০৯ সালে উপসচিব পদে থাকাকালে পদত্যাগ করে অবসরে যান। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতির যুক্ত রয়েছে

দলীয় সূত্র জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। এরমধ্যেই মহাজোটের শরীক দল ও মিত্রদের মধ্যে আসন ভাগাভাগি সম্পন্ন হবে। ১৭ ডিসেম্বরের পর চূড়ান্ত হবে নৌকার ক’জন মাঝির হাতে বৈঠা দেবেন আওয়ামী লীগ। সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীক ও মিত্রদের জন্য ৩৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *