অন্যান্যজাতীয়তথ্যপ্রযুক্তিবিনোদনরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

ঘরে পড়ে ছিল মায়ের পচনধরা মরদেহ, জানতেন না সচিব-বুয়েট শিক্ষক সন্তানরা

বিশেষ প্রতিনিধি
নুরজাহান বেগম যে ঘরে থাকতেন সেটি অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো ছিল।
এক ছেলে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত, আরেক ছেলে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ বুয়েটের শিক্ষক। তবুও ৭২ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের শেষ দিনগুলো কেটেছে একাকীত্ব ও অবহেলায়। এমনকী কয়েকদিন আগে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া নুরজাহানের নিথর দেহ ঘরে পড়ে থাকলেও তা জানতেই পারেননি সন্তানরা। পাশের কক্ষে মেয়ে থাকলেও তিনিও টের পাননি মা বেঁচে আছেন না মারা গেছেন।

রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে মিরপুর সেকশন-৬ এর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করার পর এসব তথ্য জানা যায়।
পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করায় পুলিশের ধারণা অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৃত নুরজাহান বেগমের এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের সচিব পদে কর্মরত এবং আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তবে তারা কেউ মায়ের সঙ্গে থাকতেন না।

জানা যায়, পুরো বাসায় ওই বৃদ্ধা ও তার মেয়ে একাই থাকতেন। কিন্তু মা মারা যাওয়ার পরও মেয়ে টের পাননি এবং ওই কক্ষটিতেও দীর্ঘদিন কেউ প্রবেশ করেনি বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটটি মূলত ওই বৃদ্ধার মেয়ের। তারা মা-মেয়ে দুজনেই ওই বাসায় থাকতেন এবং সেখানে কোনো পুরুষ মানুষ ছিল না।
ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে মা এবং অন্য কক্ষে মেয়ে থাকতেন। বৃদ্ধার মেয়ের স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান।

তবে মায়ের ঘরটির অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। পুরো কক্ষ ময়লা-আবর্জনা ও ছত্রাকে ভরা ছিল এবং পোকা-মাকড় জন্মেছিল, যা মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। বৃদ্ধা এক সপ্তাহ আগে মারা গেলেও মেয়ে কোনো খবর রাখেননি।

পল্লবী থানার ওসি হাসান বশির জানান, ‘রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তার মাকে ডাকতে যান। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন, কারণ তিনি ভেবেছিলেন মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানালে, স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।’

ওসি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে রইলেন, অথচ তিনি নাকে কোনো গন্ধ পাননি—এই বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *