জাতীয়সর্বশেষসারাদেশস্বাস্থ্য

তীব্র শীত ও কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন, বিপাকে জীবন

জহিরুল ইসলাম রাজু

সারা দেশের মতো ফেনীর ফুলগাজীতে ও তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার সাথে মেঘলা আকাশে বিপর্যস্ত জনজীবন। কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। শীতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ।

ফেনী আবহাওয়া সূত্র থেকে জানা যায় সকাল ৬টায় এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকালে উপজেলার ফুলগাজী বাজার, মুন্সীরহাট, আমজাদহাট ও জিএমহাট ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় ধীরগতিতে চলছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। হেডলাইট জ্বালিয়েও বেশি দূর রাস্তা দেখতে পাচ্ছেন না গাড়ি চালকরা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে ফুলগাজীতে দূরপাল্লার বাস আসতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, কুয়াশার কারণে এখন সময় লাগছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।

এদিকে ছোট আকারের যানবাহন রিকশা-ভ্যান ও অটোচালকরাও পড়েছেন বিপাকে। সকালে শীত আর কুয়াশায় তেমন যাত্রী পাচ্ছেন না তারা।

গত কয়েক দিন থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত থাকছে ঘন কুয়াশা, দেখা মিলছে না সূর্যের। ফলে বিপাকে পড়ছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েও কোনো কাজ পাচ্ছেন না তারা।
ফেনী থেকে মুন্সীরহাট আসা বাসচালক শংকর বলেন, হাসপাতাল মোড় থেকে যাত্রী নিয়ে আসলাম, সময় লেগেছে আধা ঘণ্টা। কুয়াশার কারণে ঠিকমত রাস্তা দেখা যায়নি।
ট্রাকচালক জয়নাল আবেদীন বলেন, পরশুরাম থেকে আসলাম। কুয়াশার কারণে ৩০ মিনিটের দূরত্বে আসতে ১ ঘন্টা দেরি হয়েছে।
সুমন নামে এক রিকশাচলক বলেন, পেটের দায়ে এই হাঁড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশার মধ্যে রিকশা নিয়ে আসছি। কমুয়া রোডে বসে আছি, লোকজন নাই।

ফেনীতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল আরোহী বিশু বৌদ্ধ জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে সড়কে সিএনজি অটোরিকশা কম। তাই বাধ্য হয়ে কুয়াশা উপেক্ষা করে কর্মস্থলে রওয়ানা হয়েছি।

এদিকে তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে বৃদ্ধ ও শিশু। অধিক ঠান্ডায় শ্বাসকষ্ট এড়ানো যেন দুঃসাধ্য। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, শ্বাসকষ্ট সহ ডায়রিয়া জনিত কারণে শিশু ও বৃদ্ধ ভর্তি আছে। এর সংখ্যা ৫/৬ জন। তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেবুলাইজার সহ সকল প্রস্তুতি আছে উল্লেখ করে মায়েদের প্রতি আরামদায়ক পোশাক পরিধানের পরামর্শ দিয়ে বলেন তাদের খুব ঠান্ডা- গরমে রাখা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *