জাতীয়প্রচ্ছদফিচাররাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর পদ ফিরে পাচ্ছেন কালাম

ফেনী শহরের সুলতানপুর এলাকায় গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এবার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ ফিরে পেতে যাচ্ছেন আবুল কালাম।

স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপ-সচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

রোববার (৩ মার্চ) জারি হওয়া আদেশের কপি মঙ্গলবার (৫ মার্চ) ফেনী পৌরসভায় পৌঁছেছে।

ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর- ৯৫৩১/২০২৩ এর ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের আদেশের কপি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে প্রেরণ করা হলো।

জানা যায়, গত বছরের ১৫ মে উপ-সচিব মো. আব্দুর রহমান সাক্ষরিত অফিস আদেশে আবুল কালামকে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩১ (১) অনুযায়ী ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে আবুল কালাম বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন ৬ মাস পর্যন্ত স্থগিত করেন। চলতি বছরের গত ১২ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র সহকারি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পূরবী গোলদার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

আবুল কালাম বর্তমানে নওগাঁ জেলায় তাবলীগ জামায়াতে রয়েছেন। সোমবার মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল ফোনে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিতের বিষয়টি তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

এর আগে আবুল কালামকে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। দীর্ঘ ১ বছর ৮ মাস পলাতক থেকে গত বছরের গত ১৪ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে কালাম।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৫ জুলাই রাতে কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ থেকে শাহজালালসহ কয়েকজন মৌসুমী গরু ব্যবসায়ী একটি ট্রাকে গরু নিয়ে সুলতানপুরে আসেন। ওই রাতে ট্রাকসহ গরু লুট করতে যান পৌরসভার কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ও তার সহযোগীরা। এতে বাধা দেয়ায় শাহজালালকে গুলি করে হত্যার পর পাশ্ববর্তী পুকুরে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশ তার বাড়ি থেকে রক্তমাখা পাঞ্জাবী উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই আল আমিন বাদী হয়ে আবুল কালাম, তার ভাতিজা আশরাফ হোসেন রাজু ও সহযোগী নাঈমুল হাসানের নাম উল্লেখ করে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কালামের সহযোগী আশরাফ হোসেন ও নাঈমুল হাসানকে পুলিশ তাৎক্ষনিক গ্রেফতার করলেও কালাম পালিয়ে যায়। গ্রেফতারের পর নাঈমুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *