রামিসা হত্যা মামলার রায়ের বিচারক ড. মাসরুর সাকেলীন ফেনীর কৃতি সন্তান
গাজী মাসুদ রানা
সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করা শিশু রামিসা (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৯ মে ২০২৬ রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে।
ঘটনার মাত্র ২০ দিনের মাথায়, ৭ জুন ঢাকা শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মাসরুর সালেকীন মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।
এ রায়ের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, শিশু রামিসার পরিবারের জন্য এটি ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিও জানিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, অতীতে অনেক আলোচিত মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তাই রামিসা হত্যা মামলার ক্ষেত্রেও দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে আলোচিত এ রায়দানকারী বিচারক ড. মাসরুর সালেকীন ফেনীর পরশুরাম পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সালিয়া গ্রামের কৃতী সন্তান। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ মজুমদারের একমাত্র ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শহিদুল্লাহ মজুমদার ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তাঁর ছেলে ড. মাসরুর সালেকীন ঢাকা শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজ এলাকার কৃতী সন্তানের এমন গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গর্বিত পরশুরামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন বিচারক হিসেবে তিনি নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।
পরশুরামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও ড. মাসরুর সালেকীনের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তাঁর এ রায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়াবে।

