অন্যান্যজাতীয়তথ্যপ্রযুক্তিরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশস্বাস্থ্য

মুন্সীরহাটে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে আঘাতের অভিযোগ

ফুলগাজী প্রতিনিধি

ফেনীর ফুলগাজীতে মামলা চলমান একটি সরকারি জমিতে মাটি কাটার কাজে বাধা দিতে গিয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নাসিম উদ্দিন পাটোয়ারী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় তাঁকে কিল-ঘুষি, লাথি ও ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে ফুলগাজী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সরকারি জায়গায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে রহিম উল্যাহ চৌধুরী (৬৫), সহ আরও দুইজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর অভিযোগ, মুন্সীরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ৭৬ শতক সরকারি জমির মধ্যে সাত শতক নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। একই জমি নিয়ে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও মামলা বিচারাধীন বলে জানান পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে রহিম উল্যাহ চৌধুরী ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ওই জায়গায় প্রবেশ করে মাটি কাটতে শুরু করেন। বিষয়টি দেখে তিনি এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় তাঁকে কিল-ঘুষি, লাথি ও ইট দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬ অক্টোবরের বহির্বিভাগের চিকিৎসাপত্রে ‘H/O physical assault’ উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসক ডা. মোজাম্মেল হোসেন অশ্রু তাঁকে ব্যথার ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন এবং ডান কনুইয়ের এক্স-রে করার পরামর্শ দেন।

ঘটনার পরদিন ৭ অক্টোবর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক, ফেনীর কাছে পাঠানো চিঠিতে ঘটনাটিকে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে রহিম উল্যাহ চৌধুরী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৫৩, ৩৮৫সহ সংশ্লিষ্ট ধারায় ফৌজদারি মামলা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

মুন্সীরহাট পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সামনের জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। তথ্য অনুযায়ী জানাযায় ২০১৭ সালের দেওয়ানি-৫৪ নম্বর মোকদ্দমায় ২০২৫ সালে রহিম উল্যাহ চৌধুরীর পক্ষে রায় হয়। পরে সরকারি পক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। বর্তমানে বিষয়টি জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল মামলা নম্বর ৭২/২০২৫ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে জমিতে বেড়া দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন ফুলগাজীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আকতার দৈনিক ফেনীকে বলেছিলেন, মামলাটি আপিল পর্যায়ে থাকায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কারও পক্ষে জায়গা দখল করা বৈধ নয়।

অন্যদিকে রহিম উল্যাহ চৌধুরীর দাবি, তিনি ১৯৯৩ সালে জমিটি কিনেছেন এবং ২০২৫ সালের আদালতের রায়ে জায়গাটি তাঁর দখলে রয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর দাবি, হামলার ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করতে ফুলগাজী থানায় গেলে পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম প্রথমে মামলা না নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযুক্ত রহিম উল্যাহ চৌধুরী বলেন, “পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আপিলেও আমি রায় পেয়েছি। ১৪৫ ধারায় রায় পাওয়ার কারণে শ্রমিক নিয়ে মাটি কাটতে সেখানে গিয়েছি।” আদালতের রায়ের কপি তাঁর কাছে ছিল কি না এবং তা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, রায়ের কপি তাঁর কাছে ছিল; চাইলে তখন দেওয়া যেত। ওখানে কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানান রহিম উল্লাহ চৌধুরী।

ফুলগাজী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তার ওপর হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, ১৪৫ ধারার মামলায় রায় পাওয়া মানেই জমির মালিকানা পাওয়া নয়। আদালতে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আগে এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *