লিফটের চাপা পড়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
চট্টগ্রাম অফিস
প্রীতম চৌধুরী (২০)। বিগত ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হয়েছিল সম্মান (অনার্স) শ্রেণিতে। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া একমাত্র পুত্র সন্তান প্রতীম তাঁর পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে খুব ভালোভাবে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিল। স্বপ্ন ছিল শিক্ষিত হয়ে পিতার সাথে পরিবারের হাল ধরে অভাব ঘুঁচাবেন। কিন্তু, মৃত্যুর কাছে প্রীতমের সেই স্বপ্ন যেন পরাজিত হলো।
গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) রাতে বন্দর নগরীর দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় ভবনের লিফটের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে স্বপ্নবাজ তরুণ প্রীতম চৌধুরীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নও চাপা পড়ে। ওই রাতে প্রীতম নগরীর সদরঘাটস্থ ফোর স্টার কমিউনিটি সেন্টার নামে একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে নিজ বোনের বিয়ের খাবার খালাত বোনকে দিতে গিয়ে ভবনের লিফটের নিচে চাপা পড়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন কোতোয়ালী থানার সহকারী কমিশনার (এসি) অতনু চক্রবর্ত্তী।
নিহত প্রীতম চৌধুরী চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা এলাকার ফটিকা ৫নং ওয়ার্ডের রূহীনি কন্টাকটার বাড়ির শিমুল চৌধুরীর একমাত্র পুত্র। সে (প্রীতম) উপজেলার নাজিরহাট কলেজের সম্মআন শ্রেণির অর্থনীতি বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। আগমী ১৬ অক্টোবর হাটহাজারী সরকারি কলেজে তাঁর ১ম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। তাঁর বাবা বেসরকারী একটি ঔষধ কোম্পানীতে কাজ করত।
জানা গেছে, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার নগরীর সদরঘাটস্থ ফোর স্টার কমিউনিটি সেন্টারে তাঁর (প্রীতম) মেজ বোনের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। উক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে সে তাঁর প্রতিবন্ধি খালাত বোনের জন্য উক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে খাবার নিয়ে নগরীল দক্ষিণ নালাপাড়ার আম্বিয়া গ্রিণ নামে ছয় তলা ভবনের পঞ্চম তলায় নিজেদের বাসায় গিয়েছিলেন। রাত নয়টা ৫০ মিনিটের দিকে খাবার নিয়ে নামার সময় অসাবধানতাবশতঃ লিফটের নিচে চাপা পড়ে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে এসি কোতোয়ালী অতনু চক্রবর্ত্তী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমরা ভবনের বাসিন্দাদের থেকে জানতে পেরেছি, লিফটটা কিছুদিন ধরে ঠিকভাবে কাজ করছিল না। এক ফ্লোরের সুইচ টিপ দিলে অন্য ফ্লোরে দাঁড়াতো। এক্ষেত্রে প্রীতম যেহেতু তাড়াহুড়োয় ছিল, মনে হচ্ছে, কমান্ড সঠিক ভাবে কাজ করেনি। গ্রাউন্ড ফ্লোর আসার আগেই লিফট আটকে যায়। সে খেয়াল না করে নেমে যায় এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাঁর পরিবার বর্তমানে শোকে মূহ্যমান। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা আইনি ব্যবস্থায় যাবো।
এদিকে, তাঁর মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গর্ভধারিণী মা শর্মিলা চৌধুরী ও জন্মদাতা পিতা পুত্রশোকে মূহ্যমান হয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবারের আহাজারিতে এলাকায় শোকাবর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে মরদেহটি নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমায় এলাকাবাসী ও তাঁর বন্ধুবান্ধব-সহপাঠীরা। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই প্রীতমকে সৎকার শেষে পাশ্ববর্তী শ্মশানে শেষকৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর চাতী স্কুল শিক্ষিকা মন্দিরা সেন।
