জাতীয়প্রচ্ছদফিচাররাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল মজুমদারের হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান দিয়েছে দূদক

বিশেষ প্রতিনিধি
ফেনীর পরশুরাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার। ১৫ বছর ধরে এই পদ আগলে রেখে তিনি ২৩টি ফ্ল্যাট, ১৫টি দোকান, দুটি সাততলা বাড়ির মালিক হয়েছেন। দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এ খবর জেলার সকল স্থরের মানুষের মুখে মুখে। গ্রাম গঞ্জে হাটে বাজারের মানুষের একটি প্রশ্ন কামাল মজুমার সরকারের ১৫ বছর শুধু নিজেকে একজন অসয়াও শূন্য হাতের মানুষ দাবী করে আসছে। অথচয় দূদকের তদন্তে তার জমির সংবাদ মিলেছে তার জমি রয়েছে ঢাকার বেইলি রোড, মগবাজার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রামে হালিশহর ও খুলশীতে। হাসপাতাল-রেস্তোরাঁসহ আরও সম্পদ রয়েছে তার। সম্প্রতি দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার এসব অবৈধ সম্পদের তথ্য। কামাল উদ্দিন মজুমদার ছিলেন পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৪ ও ২০১৯ সালেও নৌকার টিকিটে পদটিতে বহাল থাকে তিনি।
দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, কামাল উদ্দিন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চাকরিতে নিয়োগ, ও অবৈধ ঠিকাদারি ও বলি বিক্রির মাধ্যমে সম্পদের মালিক গত ১৫ বছরে ২৩টি ফ্ল্যাট, দুটি সাততলা বাড়ি, ১৫টি দোকান, বেইলি রোড, মগবাজার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রামের হালিশহর ও খুলশীতে প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হয়েছেন।
এই সম্পদের মধ্যে রয়েছে ফেনী সদন একাডেমি সড়কে স্টেডিয়ামের পাশে সাততল বাড়ি, ফেনী শহরের বনানী পাড়ায় সাততলার দুটি বাড়ি, ফেনী পাইলট হাই স্কুলের পাশে তিনটি দোকান, আলিয়া মাদ্রাসা মার্কেট সাতটি দোকান ফেনী সদর হাসপাতালে তিনটি দোকান, দুটি অটোরিকশা পার্টসের দোকান, ফেনী শহরের উত্তরা মডেল হাসপাতালে ৪০ শতাংশ শেয়ার এ ফেনীর সিজলার রেস্টুরেন্ট ৬০ শতাংশ শেয়ার । এছাড়া ফেনী শহরে নামে-বেনামে ২৩টি ফ্যাট, সাতটি ফ্ল্যাট, সাতটি গুদাম, ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের পেছনে কামাল চেয়ারম্যান টাওয়ার, হোম প্লাস নামে একটি চেইন শপের ৬০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে কামাল উদ্দিন মজুমদারের। অন্যদিকে রাজধানীর বেইলি রোড, মগবাজার, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, যমুনা ফিউচার পার্ক, মিরপুর টয়োটা গ্রাউন্ড, চট্টগ্রামের হালিশহর ও খুলশীতে তার প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে। তাছাড়া ৭০ লাখ টাকার প্রবাসী বন্ড রয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অভিযোগ-সংক্রান্ত তথ্য গোপনে অনুসন্ধান করা হয়। তিনি দায়িত্ব পালনকালে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। বেনামে তার আরও স্থাপনা আছে বলে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।’ বিষয়টি অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে গোয়েন্দা বিভাগ।


এ দিকে তার এসকল অবৈধ সম্পদকে অক্ষত রাখতে তার বড় মেয়ের জামাতা ও ভাতিজা ইয়াছিন শরিফ পরশুরাম উপজেলার বিআরডিবির চেয়ারম্যান, উপজেলা ক্রিড়া সংস্থা,পশুরাম ব্যবসায়ী সমিতি, যুবলীগের সভাপতি সহ প্রায় ৪২টি কমিটির সভাপতি দায়িত্বে রয়েছে। পরশুরাম উপজেলার প্রবীণ আওয়ামীলীগের একাদিক নেতা বলেন উপজেলার ব্যববসায়ী সমিতি থেকে শুরু করে সকল কমিটির গুরুত্বপূর্ন পদটি কামাল মজুমদার তার জামাতার জন্য রেখে দিনেত। সকল কমিটিতে তারা হস্থক্ষেপ ছিলো। তারা বলেন পরশুরাম,ফুলগাজী ও ছাগলান উপজেলার সকল ইটভাটায় বিনা পয়সায় তার পার্টনার রয়েছে। কোন ইটভাটার মালিক তাকে পার্টানার দিতে না চাইলে তাকে বিভিন্ন প্রকার হয়রানি করা হতো।


অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কথা বলতে শনিবার সকাল থেকে (০১৫৫৮৩৫৭৫০৮) তার মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও কামাল উদ্দীন মজুমদার কে পাওয়া যায়নি। দুদকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘কামাল উদ্দীনের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে দুদকের গোয়েন্দা টিম। গোয়ান্দা প্রতিবেদনে তার নামে-বেনামে অনেক সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয় অনুসন্ধান করতে কমিশনে আবেদন করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *