জাতীয়রাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

পরশুরামে কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

পরশুরাম প্রতিনিধি

পরশুরামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ কেয়ারটেকার (মির্জানগর রিসোর্স সেন্টার) পদে নিয়োগ ঝুলিয়ে রেখে হয়রানির প্রতিবাদে ও দ্রুত নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ আকবর হোসেন।

গতকাল শনিবার  বিকেলে পরশুরাম প্রেসক্লাবে মোহাম্মদ আকবর হোসেন সাংবাদিকদেরকে জানান,২০২৩ সালের ১২ জুলাই তারিখে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ কেয়ারটেকার( মির্জানগর রিসোর্স সেন্টার) পদে নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক কর্তৃক সুপারিশ প্রাপ্ত হই। ২৫ জুলাই চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন ও পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জামায়াত শিবিরের সক্রিয় কর্মী মর্মে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ে আমাকে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য মতামত প্রেরণ করেন।

এরপরও ১৪ সেপ্টেম্বর দপ্তর থেকে আমার নিয়েোগ অনুমোদন দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমাকে সম্মানী ভাতা দেওয়ার কথাও বলা হয়। এর মধ্যে ফেনীর জেলা কার্যালয় থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য ডিএসবি’তে পাঠায়।রিপোর্টে বলা হয়, প্রার্থী জামায়াত শিবিরের সক্রিয় কর্মী মর্মে উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার ও মির্জানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান ভুট্টো  প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করেছেন।

গত ৩ নভেম্বর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফেনী জেলা কার্যালয় পুলিশ ভেরিফিকেশন সন্তোষজনক নয় মর্মে প্রকল্প দপ্তরে চিঠি পাঠায়। প্রকল্প দপ্তর থেকে বলা হয়,জেলা মনিটরিং কমিটির মতামত গ্রহণপূর্বক প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়। জেলা মনিটরিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক উপজেলা মনিটরিং কমিটির মতামত গ্রহণ করে চলতি বছরের ২৯ আগস্ট বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চিঠি প্রেরণ করা হলেও আমাকে নিয়োগ পত্র দান  বা বাতিল কোনটি করা হয়নি।

আকবর হোছাইন বলেন,উপজেলা মডেল কেয়ারটেকার ইকরামুল হক চৌধুরী আমাকে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। আমি যাতে নিয়োগ না পাই,আমার বিরুদ্ধে আমার এলাকার মানুষকে নানাভাবে বিক্ষুব্ধ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমানে আমি আমার পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। আমার কোন ধরনের ক্ষতি হলে ইকরামুল হক চৌধুরী ও উপজেলা সুপারভাইজার মো আলমগীর হোসেন দায়ী থাকবে। গত ১৫ মাস আমাকে নিয়োগ না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।আমাকে সুপারিশকৃত পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন,ফেনী জেলা প্রশাসক পশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মডেল কেয়ার টেকার একরামুল হক চৌধুরী সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, কোন সাংবাদিক উল্টাপাল্টা সংবাদ প্রকাশ করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফেনী জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক  নেয়ামত উল্লাহ মুঠোফোনে  জানান,পরশুরামে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকার ও অন্যান্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে।  এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণ কেয়ারটেকার পদে আকবরের নিয়োগ না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আকবরকে জামায়াত শিবির করার কারণে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না বিষয়টি সত্য নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা হাবিব শাপলা বলেন,আমি যতটুকু জানি ওনার সাধারণ কেয়ারটেকার(মির্জানগর রিসোর্স সেন্টার) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জেলা থেকে বাতিল হয়েছে। শ্রীপুরে একটি গণশিক্ষা কেন্দ্রে তিনি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ওনার পাঠদান ভালো বিধায়, তাকে সেখানে রাখার জন্য সুপারিশ করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *