ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী খুনের রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি গ্রেপ্তার
আনোয়ার হোসেন
ফেনীর শর্শদীতে সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রী রীনা আক্তার (৪৪) হত্যা ও বালুচাপা দিয়ে লাশ গুমের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মূল আসামি সাইফুল ইসলামকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পিবিআই ফেনী জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ১২ মে ফেনী সদর উপজেলার ১ নম্বর শর্শদী ইউনিয়নের পশ্চিম জোয়ারকাছাড় এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সৌদি আরব প্রবাসী মানিকের স্ত্রী রীনা আক্তারকে তার নির্মাণাধীন ভবনের পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ভবনের পাশে জমা রাখা বালুর নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মহরম আলী বাদী হয়ে ফেনী সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়ের করা হয় ১৩ মে, মামলা নম্বর-৩৯।
ঘটনার পরপরই পিবিআই ফেনীর একটি বিশেষ ‘ক্রাইমসিন টিম’ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করে। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং ফেনী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার উক্য সিং পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে মামলার ছায়া তদন্ত শুরু হয়।
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল আসামিকে শনাক্ত করে পিবিআই। পরে বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকার রূপসী পাহাড় এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত সাইফুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চোছনা (জমাদার বাড়ি) এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার এলাকার লোকনাথ স্বর্ণ শিল্পালয় থেকে নিহতের লুণ্ঠিত এক জোড়া কানের দুল উদ্ধার করা হয়। দোকানের মালিক শিমুল চৌধুরী জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কিস্তির টাকা পরিশোধের কথা বলে সাইফুল ইসলাম তার কাছে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ টাকায় কানের দুল বিক্রি করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। পেশায় রাজমিস্ত্রি সাইফুল পুলিশের কাছে জানান, কিস্তির টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি এ হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পিবিআই আরও জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে রীনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনের দেয়ালে পানি দিতে গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাইফুল তার কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে গলা চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে মরদেহ বালুর নিচে চাপা দিয়ে চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেন তিনি।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। মামলার তদন্ত করছেন পিবিআই ফেনী জেলার পুলিশ পরিদর্শক কাউসার আলম ভূঁইয়া।

