ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের দুই শিক্ষকের নিয়োগ স্থগিতের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

বিশেষ প্রতিনিধি : মির্জা নাদিম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ সালমান ও মো. জুনায়েদের নিয়োগ কার্যক্রম সিন্ডিকেট কর্তৃক স্থগিত করা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নিয়োগ স্থগিতের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। পাশাপাশি রিট আবেদনকারীদের দাখিল করা আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান আরিফ জানান, ২০১৬ সালে আরবি বিভাগে চারটি প্রভাষক পদের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে রিটকারীরা সিলেকশন বোর্ডের ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং তাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে তামীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় রাজনৈতিক চাপে তারা পদে যোগদান করতে পারেননি।
২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বোর্ড মনোনীত প্রার্থীদের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে। এতে ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশের আর্টিকেল ২৩(২) লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। আদালতে রিটকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই স্থগিতাদেশ সংবিধান পরিপন্থি।
রিটকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিয়োগ বিষয়ে তথ্য জানার জন্য তারা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু প্রশাসন কোনো সাড়া না দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হয়রানি করেছে। পরে ছাত্র জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। রিটকারীরা দাবি করেছেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পটভূমি বিবেচনায় তাদের নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
হাইকোর্ট রুলে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
