পিসির দ্বন্দ্বে ফেনীতে পৌর প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বিএনপি নেতার হামলা ভাংচুর,
বিশেষ প্রতিনিধি
ফেনী পৌরসভার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজে ভাগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল হাসান মাসুদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায় ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিনের দপ্তরে।
সাক্ষীরা জানান, নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির উদ্দিন। ওই সময় হঠাৎ বিএনপি নেতা কামরুল হাসান মাসুদ তার অফিসকক্ষে ঢুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং অফিসের ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। তিনি প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও চেষ্টা করেন।
এদিকে অভিযুক্ত কামরুল হাসান মাসুদ বলেন তারা নিয়ম অনুযায়ী সমিতির মাধ্যমে পিসি দিয়ে প্রকল্পের কাজ করছেন। ইতিমধ্যে পৌরসভার সাবেক নির্ভয়ে প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ ও উপসহকারী প্রকৌশলী বর্তমান বাগাছড়ি পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার সুমন তাদের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা পিসি নিয়ে গেলেও সে টাকা জমা না দিয়ে নিজেদের পকেটে নিয়ে যায়। বর্তমান প্রকৌশলী জাকির পিসির টাকার জন্য তার ফাইল আটকে রাখেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে হামলা ও ভাংচুর হয়নি।
প্রকৌশলীর চিৎকারে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মাসুদ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ফেনী মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির উদ্দিন দৈনিক যুগান্তরকে বলেন, “বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ফেনী পৌরসভায় ২৮কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য দরপত্র দাখিল অনুসারে র্আ.এফ.এল ও পি.ডি.এল নামের দুইটি প্রতিষ্ঠান ৩পার্সেন কমে দরপত্র দাখিল করেন। দরপত্রের নিয়ম অনুসারে সর্বনিন্ম দরদাতা হিসাবে তার কাজটি পায়। সোমবার উক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পর্ন হওয়ার কাজ চলছে।এতে মাসুদ ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালায়। এ কাজে কেউ প্রভাব বিস্তার বা ভাগ দাবি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা জানিয়েছেন।
ফেনী মডেল থানার এসআই আনোয়ার জানান তার অফিসে হামলার সংবাদ পেয়ে ঘটনার স্থল পরিদর্শন করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

