অন্যান্যঅর্থনীতিআন্তর্জাতিকজাতীয়প্রচ্ছদসর্বশেষসারাদেশ

ফেনীতে রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তার সহযোগিতায় গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ

সংবাদদাতা

ফেনীর সোনাগাজীতে রূপালী ব্যাংকের তিন গ্রাহকের একাউন্ট থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা।


সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক মঙ্গলাবার বিকালে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে দাবী করেছেন।


মঙ্গলবার উপজেলার আমির উদ্দিন মুন্সিরহাটে রুপালী ব্যাংকের শাখার গেইটে তালা লাগিয়ে গ্রাহকরা এ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ সময় তারা টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় ব্যাংকের ম্যানেজার দিদারুল আলম ও সিনিয়র অফিসার আনিসুর রহমান সহ ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়ী করে তদন্তের দাবী জানিয়ে টাকা ফেরত চান।


মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা বলেন, টাকা উদ্ধার করার কথা বলে ম্যানেজার ঘুষ দাবী করেছেন। প্রথমে ৬ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানালেও আমরা ঘুষ দিতে না পারায় উদ্ধার কাজে অপারগতা প্রকাশ করে ব্যাংক ম্যানেজার। পরে আমরা যোগাযোগ করলে আমাদেরকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাহক আবুল বশরের একাউন্ট থেকে ৩৩ হাজার টাকা, তার প্রবাসী বড় ছেলে মনসুর আলমের ১৮ লক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং ছোট ছেলে ইফতেখার আলমের ৯৫ হাজার টাকা জমা ছিল। গ্রাহক কোন লেনদেন না করলেও এ টাকা ইসলামি ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার একাউন্টে ট্রান্সফার হয়ে যায়।


গত ১২ নভেম্বর টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি প্রথম টের পান ব্যাংকের কর্মকর্তারা। পরে ব্যাংক থেকে গ্রাহক আবুল বশরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন টাকা লেনদেন করেননি বলে জানান। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক কৃষক আবুল বশর জানান, আমি ও আমার দুই পুত্রের মোট ৩টি একাউন্ট থেকে টাকা সরানোর ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজস রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাকে সহযোগিতা না করে আদালতে মামলা করার জন্য পরামর্শ দিয়ে দায় মুক্ত হতে চায়। আমাদের টাকার পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া ব্যাংকের দায়িত্ব ছিল। এই ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিচার ও টাকা ফেরত চাই।


রূপালী ব্যাংক আমির উদ্দিন মুন্সির হাট শাখার ম্যানেজার দিদারুল আলম বলেন, অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি নজরে আসার পর আমরা গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করি। তারা কোন লেনদেন করেননি বলে জানানোর পর আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। ইতোমধ্যে প্রধান কার্যালয়ের একটি টিম এই শাখাটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই টাকা গুলো অ্যাপসের মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হয়েছে।অ্যাপসের লেনদেন হেড অফিস সরাসরি তদারকি করে তাই এই লেনদেনে আমি বা আমার শাখার কারো দায় নেই।


সোনাগাজী উপজেলা ব্যাংকার্স ফোরামের সভাপতি ও ইসলামি ব্যাংক পিএলসি সোনাগাজী শাখার ম্যানেজার মনসুরুল আলম বলেন, তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র এসব কাজ করে থাকে। তবে এই ধরনের ঘটনায় অনেক সময় একাউন্ট ধারীর কাছের লোক ও জড়িত থাকে। বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসবে।
সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। গ্রাহকের একাউন্টে লেনদেনের যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *