সংখ্যালঘুদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করতে সমিতের হত্যাকান্ড-আব্দুল আউয়াল মিন্টু
সৌরভ সাহস/নিমাই মজুমদার
দাগনভূঞায় সমির দাস (২৯) নামে এক অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা কান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শান্তনা জানাতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু সুমিতের বাড়িতে হাজির হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে আব্দুল্লাহ আউয়াল মিন্টু সুমিত দাসের স্ত্রী ও পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করে দুর্বৃত্তদের হাতে নিশংসভাবে খুন হওয়া এ হত্যাকাণ্ডে প্রকৃত অপরাধী গ্রেফতার এবং শাস্তির আওতায় আনার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। একই সাথে তার পক্ষ থেকে অসহায় পরিবার ও তার শিশু সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন হত্যাকাণ্ডের মুটিব দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে তিনি এবং তার দলের পক্ষ থেকে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের সাথে কোন দেশকে দোষারোপ করে কোন লাভ নেই। আসন্ন নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি করতে ভাড়া করা দুর্বৃত্তদেরকে দিয়ে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে আমি মনে করি।
এ সময় অন্যান্যদের মতো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুবকর কমিটির সভাপতি শিমুল সাহা, ফেনী জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুখদেবনাথ তপন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট রসিক শেখর, সাধারন সম্পাদক লিটন সাহা, যুগ্ম সম্পাদক অজয় দাস, সাংবাদিক নিমাই মজুমদার, ফেনী জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সাহা ও দাগনভূঞা উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানের সভাপতি সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ক্ষতি গ্রস্থ পরিবারকে শান্তনা জানান।
গত রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে থানার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর এলাকার মুহুরী বাড়ির পাশে পাকা রাস্তাসংলগ্ন একটি নিচু জমি থেকে সুমিত দাসের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে তার অটোরিকশা এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, সুমিতকে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত সুমিত মাতুভূঞা ইউনিয়নের রামানন্দপুর ফাজিলের ঘাট জেলে বাড়ির কার্তিক দাসের ছেলে।
নিহত সুমিতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত ৮টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সুমিত। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না পাওয়ায় আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেও হদিস মেলেনি সুমিতের। সোমবার রাত ২টার দিকে দক্ষিণ করিমপুর এলাকায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। লাশের মাথা, মুখ ও বুকে ধারাল দেশীয় অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দাগনভূঞা থানার ওসি ফজলুল আজিম নোমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। তবে এখনো কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

