অন্যান্যক্যাম্পাসজাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

রোববার বিকালে মায়ের পিত্রালয় ফেনীতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি

জানুয়ারি ফেনী যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সদ্য প্রয়াত ‘মা’ বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত পিতৃভূমি ফেনীর মানুষ তারেক রহমানের আপনজন। শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয় মায়ের এলাকার মানুষকে একপলক দেখতে শত ব্যস্ততার মাঝেও ফেনী ছুটে আসছেন তিনি। বিএনপির ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ফেনী জেলা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আবেগ অনুভূতির জায়গা।

এর আগে সর্বশেষ তিনি ২০০৬ সালে ছাগলনাইয়ায় শিল্পপতি এমএ কাশেমের ছেলে তারেক রহমান-এর স্মরণে স্মৃতি বৃত্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ফেনী আসেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারো নানার বাড়ি ফেনীতে আসছেন তিনি।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২৫ জানুয়ারি রবিবার বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে ফেনী শহরের পাইলট হাইস্কুল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

তারেক রহমানের আগমনে ফেনী জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন। ১৬ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ জেলায় তারেক রহমানের জনসভায় কয়েক লাখ নেতাকর্মী, সাধারণ ভোটার ও আপামর জনসাধারণের উপস্থিতি ঘটানো হবে।

ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ফেনীতে সাজ, সাজ রব বিরাজ করছে। দলমত নির্বিশেষে লাখ লাখ নেতাকর্মী এ জনসভায় আসবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। এ উপলক্ষে তৃণমূলে ব্যাপক কাজ করছে ফেনী জেলা বিএনপি ও সকল শাখা সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুধু ফেনী নয়, তারেক রহমানের আগমনে ফেনীর আশপাশের জেলা বিশেষ করে নোয়াখালি ও লক্ষীপুর থেকে হাজার, হাজার লোকের সমাগম ঘটবে। এ জনসভায় ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরের ১৩ জন এমপি প্রার্থীকে ভোটারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।

এদিকে ফেনী জেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত তারেক রহমানের আগমনে নতুন করে জেগে উঠেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নেতা দেশে এসে মায়ের পিতৃভূমি ফেনীকে ভুলেন নি বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে শত শত মামলায় জর্জরিত তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরেজমিন ফেনী পাইলট মাঠ পরিদর্শনে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে কিছু নেতাকর্মী এখনই সকাল বিকাল জনসভার প্রস্তুতি ও তারেক রহমানের আগমনের খবর জানতে সভাস্থলে ভিড় করছেন।

এখন তারেক রহমানই ফেনীর মানুষের চাওয়া, পাওয়া ও ভালোবাসার জায়গা। দলের নেতাকর্মীরা তার আগমনেই আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে মাঠে নেমেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাগুলোর মধ্যে ফেনী খালেদা জিয়ার পিতৃভূমি হওয়ায় এ জেলার নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক তৃণমূল কর্মী মামলার ঘানি টানতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তারা তারেক রহমানের মুখে শান্তনা ও আশার বাণী শুনতে চান। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার ফেনী বিএনপি নেতাকর্মীরা ধানের শীষ ও তারেক রহমানকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, তারেক রহমানের আগমনে ফেনী জেলা বিএনপি পাইলট মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। কোথাও কোন ঘাটতি যাতে না থাকে সে বিষয়ে নেতাকর্মীরা দিনরাত খেয়াল রাখছে। জনসভায় লাখ, লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে জানান তিনি।

ফেনী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন খোন্দকার বলেন, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরের এমপি প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা এ জনসভায় অংশ নিবেন। ফেনী পাইলট স্কুলের জনসভায় অন্তত ৫ লাখ লোকের সমাগম হবে বলে তিনি জানান।

ফেনী পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে মাঠে থাকবে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জেলা পুলিশ, ট্রাফিক থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যকে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *