অন্যান্যজাতীয়প্রচ্ছদবিনোদনরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

পরকীয়ার অপবাদে সোনাগাজীতে যুবক- গৃহবধূকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, জুতার মালা

বিশেষ প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে চার সন্তানের জননী এক নারী ও দুই সন্তানের জনক এক পুরুষকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম ডাক্তার পুলের গোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব চরগণেশ এলাকার নুর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহার রুমার বাড়িতে চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভুঁইয়া বাজারসংলগ্ন অলি মাঝি বাড়ির এরশাদউল্লাহ যান। তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশপাশের লোকজন তাদের দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে দুজনকে মারধর করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুপুরের দিকে ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার ‘ফরমান’ও জারি করা হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত তাঁদের আটকে রাখা হয়।

জানা গেছে, ওই নারীর চার সন্তান এবং ওই পুরুষের দুই সন্তান রয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই নিজেরাই বিচারক ও শাস্তিদাতা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা সমাজের জন্য ভয়ংকর। কথিত পরকীয়ার অভিযোগ সত্য কি না, সেটি তদন্তের বিষয়। অভিযোগ থাকলে থানায় জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে মামলা হবে। কিন্তু কাউকে ধরে মারধর করা, খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা কিংবা তাঁর সংসার ভেঙে দেওয়ার ‘ফরমান’ জারি করার অধিকার কারও নেই।

ফেনীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন, কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে আটক, মারধর বা শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের বিচার করবে আদালত, জনতা নয়।

অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, আইনের শাসনের বিকল্প কোনো সামাজিক বিচার হতে পারে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। কাউকে আটকে রেখে নির্যাতন, অপমান বা জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া আইনসম্মত নয়। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—কারা তাদের আটক করেছিল, কারা মারধর করেছে এবং কারা বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল? ওই নারীর সংসার ভাঙার ‘ফরমান’ কারা দিয়েছিল?
পুলিশের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। অভিযোগের বিচার হবে আইনের মাধ্যমে—অপবাদ, নির্যাতন কিংবা জনতার ‘ফরমানের’ মাধ্যমে নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *