চীনা প্রভাব আটকাতে আমেরিকাকে ‘টাকা-পয়সা’ নিয়ে আসতে হবে – এর অর্থ কী? বিবিসি
বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি দাবি করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানকে বলেছেন, বাংলাদেশে চীনের প্রভাব আটকাতে হলে আমেরিকাকে ‘টাকা-পয়সা’ নিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটনে জ্যাক সুলিভানের সাথে দেখা হওয়ার পর তিনি তাকে বলেছেন “আপনারা খালি উপদেশ, আর হুকুম, আর ভয়… ও দিয়ে কিন্তু চায়নারে কনটেইন করা যাবে না। করতে হলে টাকা-পয়সা নিয়ে আসেন। উনি আমাকে বললেন যে, উনি চেষ্টা করতেছেন, হি আন্ডারস্টুড ইট।”
মি. মোমেন জানান, মি. সুলিভান বিষয়টি অনুধাবন করেছেন। একই সাথে তিনি(মি. সুলিভান) জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল তৈরি করতে চায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে দেয়ার জন্য।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, বাংলাদেশে কার প্রভাব বেশি থাকবে সে ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ কী না?
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় প্রয়োজন হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ। তবে পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশের অবকাঠামোগত খাতে দীর্ঘ সময় ধরেই কোন ধরণের বিনিয়োগ করে না।
ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমাদের যদি চীনের বিকল্প হিসেবে আসতে হয় বা বাংলাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হয়, তাহলে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৩ সালের বিনিয়োগ পরিবেশ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩.৪৪ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে জ্বালানি খাতে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় “বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা সহযোগিতা জোরদারকরণ” সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই স্মারকের আওতায় ২০ বিলিয়ন ডলার খরচে ২৭টি প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যে অন্তত ২৫টি প্রকল্পে ঋণ দিয়েছে চীন।

