অর্থনীতিজাতীয়প্রচ্ছদসর্বশেষসারাদেশ

মিধিলের তান্ডবে ফেনীর কৃষকদের স্বপ্ন লন্ড-ভন্ড

আবদুর রহিম


সোনাগাজীতে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে গাছপালা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিড়ে খুঁটি ভেঙে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে দুইদিন।
১৭ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি উপজেলায় আঘাত হানলে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে আমন ধান ও শস্য খেসারি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। টানা ২ দিনের ঝড় হওয়া ও বৃষ্টিপাতে ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ কৃষক। তবে ঘুর্ণিঝড় মিধিলি’র তান্ডবে সাংবাদিক আলমগীর হোসেন রিপনসহ ৮ জন আহত হয়ে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ীতে পিরেছেন বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের
উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আব্দুল কদ্দুস সুমন।
উপজেলা মতিগঞ্জ বোয়াগের আমন চাষি হেদায়েত উল্যাহ ৬০ শতক জমিতে আমন ধান করেছিলেন, ঘুর্ণিঝড় মিধিলি পুরো জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে পানি কমানো ছাড়া কোন উপায়ে ধান কাটা যাবে না। পানি থেকে ধান কাটতে হবে।
চরছান্দিয়ায় কৃষক দুলাল বলেন, আমন ধান কেটে জমিতে রেখেছিলাম হঠাৎ ঘুর্ণিঝড় ও বৃষ্টির  কারণে জমিতে পানি জমে গেছে। এখন ডাবল টাকা খরচ করে ধানগুলো তুলে নিতে হচ্ছে।
চরছান্দিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিলন জানান, শুক্রবারের ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তান্ডবে গাছপালা ভেঙে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আমন ধানের জমি পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় পাকা ধান, সরিষা, খেসারি ও মসুর ডালসহ শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২০ হাজার ৯শত ৭৮ হেক্টর জমিতে আমন, সরিষা ও ডাল চাষ হয়েছে। ঝড়ের কারণে সরিষার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আমিরাবাদ,সোনাগাজী,চরছান্দিয়া এলাকায় চাষীদের ক্ষতি হয়েছে।
সোনাগাজী পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক বলাই মিত্র জানান, ঝড়ে ১৫ থেকে ২০টি খুঁটির উপর গাছ ভেঙে পড়েছে এবং উপজেলার শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ এর তার ছিড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
পৌরসভার কিছু লাইনে বিদ্যুৎ সচল সচলের রয়েছে। উপজেলার বাকি লাইনগুলো পর্যবেক্ষণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান যুগান্তর কে জানান, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তান্ডবে প্রাথমিক ভাবে ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্নিঝড় মিধিলি এর প্রভাবে সোনাগাজী উপজেলায় ঘর-বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আনুমানিক ৫৫টি, এর মধ্যে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৩টি ১টি হচ্ছে মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের স্কুল ঘর।
কৃষিতে সোনাগসজী উপজেলায় রোপা আমন আবাদ হয়েছে ২০৯৭৮ হেক্টর জমিতে, আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৫০ হেক্টর জমি।
শীতের আগাম শাকসবজি আবাদ করা হয় ৬৫০ হেক্টর জমিতে,ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫ হেক্টর জমি।
প্রচন্ড বাতাসের কারণে সড়কে পড়ে থাকা গাছ ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় সরানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করে টিন সরবরাহ করা হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন জানান,আমি ঘুর্ণিঝড় মিধিলি উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করার সাথে সাথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী ভাঙ্গন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছি দ্রুত সময়ে তা যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *