ইরানের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ভয়াবহ সংকট
আন্তজাতিক ডেক্স
ভবিষ্যৎ যেন ধীরে ধীরে মাটির তলেই হারিয়ে যাচ্ছে ইরানের। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে দেশটির বিশাল অংশজুড়ে ভয়াবহ হারে জমি নিচে নেমে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সমান আয়তনের প্রায় ৩১ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বছরে কমপক্ষে ১০ মিলিমিটার হারে বসে যাচ্ছে। এই ধসের সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছেন অন্তত ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ।
সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে মধ্য ইরানের রাফসাঞ্জান শহর। পিস্তাচিও চাষ আর কৃষিকাজের জন্য লাগামহীন পানি উত্তোলনে এখানে প্রতি বছর জমি বসে যাচ্ছে গড়ে এক ফুটের মতো। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ বছরে এ অঞ্চল ১০ থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত ধসে যেতে পারে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইরানের ১০৬টি এলাকায় এই ধসের চিহ্ন ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশই কৃষি অঞ্চল। ধস যে শুধু জমিই গিলে খাচ্ছে তা নয় ফাটল ধরছে ঘরবাড়িতে, ভেঙে পড়ছে সড়ক ও রেলপথ। রাজধানী তেহরানসহ কারাজ, মাশহাদ, ইসফাহান ও শিরাজ এখন তীব্র ঝুঁকির মধ্যে। শুধু কারাজ শহরেই প্রায় ২৩ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত উচ্চ ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন।
ভূগোলবিদরা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলনা করছেন মেক্সিকো সিটি ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সঙ্গে। মেক্সিকোতে এমন ধসের কারণে ২০২১ সালে একটি মেট্রো লাইন ধসে পড়ে ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ইরানেও একই ধরনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে সামনে ভূগর্ভস্থ পানির সংরক্ষণ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ফলে খরার মৌসুমে পানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করবে, হুমকির মুখে পড়বে খাদ্য নিরাপত্তাও।

