জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

আদালতের নির্দেশের পরও মামলা নিতে অনিহা: দাগনভূঞা থানার ওসি আজিমকে প্রত্যাহারের আদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি
ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশর পরও মামলা রেকর্ডে অনিহার অভিযোগে এ আদেশ দেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান।

মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে এ সংবাদ নিশ্চিত করেন ওই আদালতের স্টেনোগ্রাফার মোহাম্মদ শামছুদ্দীন।

তিনি জানান, রবিবার দাগনভূঞা থানার মোমারিজপুর গ্রামের রাকিব হাসানের স্ত্রী বিবি মারজাহান আদালতে অভিযোগ করেন তাকে মাররীক নির্যাতন করার অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন করলেও ওসি তা করেননি। এর পর আদালতে মামলা করলে বিচারক এফআইর হিসিবে রেকর্ডের নির্দেশ দেয়ার পরও ওসি তা উপেক্ষা করেন। এ নিয়ে ভিকটিম মারজাহান আদালতে ফের দরখাস্ত দিলে বিাচারক ওসিকে দাগনভূঞা থানা থেকে প্রত্যাহার করতে জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। একই সাথে অভিযোগ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পুরিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অনুলিপি প্রেরন করেন। আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, ওসি তার কর্মকান্ডের কারনে দায়িত্বে থাকার অযোগ্যতার প্রমান দিয়েছেন।
ওসির নিজস্ব আইনে চলে থানা:
আছে চাকরির বিধি, রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালাও। তাতে কি? নিজস্ব আইন আর স্টাইল যেখানে সব। মন যা চাইবে তাই হবে আর করছেনও একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ফ্রি স্টাইলে কার্যক্রম পরিচালনা ও জীবনযাপনের কারনে ভূগতে হচ্ছে উপজেলার জনসাধারণকে। জীবন ও মালের নিরাপত্তাতো নেই, চুরি ডাকাতি ছিনতাই ও হামলা নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যাকে তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য আর গালিগালাজ যার স্বভাব। রাজনৈতিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবির প্রতিনিধিদেরও সন্মান না করে উল্টো আপত্তিকর শব্দচয়ন করে নিজেকে জাহির করার চেষ্টায় বিভোর থাকেন সারাক্ষণ। বাহিনীর পোষাক পরতেও যেন অনিহা তার। টাকা ছাড়া জিডি আর মামলাতো দূরে থাক, কারো কথাও শুনেননা ওসি। সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজ বেস্টিনিতে চলাফেরা, আড্ডা দিতে ভালবাসেন যিনি। সাধারণ জনগন ওসির কক্ষে প্রবেশ দূরের কথা সেবাও পাননা। অথচ সারাদিন-রাত চিহৃিত কিছু সন্ত্রাসী ও দালালরা থানাকে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছেন। আর সেবাপ্রার্থীরা ঘন্টার পর ঘন্টা থানার সামনে রৌদেরপুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এমন চিত্র ফেনী জেলার দাগনভূঞা থানার। আর এসবের মূলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমান। আসলে এটি ওসির স্বভাবেরই বহি:প্রকাশ। এর আগে যতো থানাতেই দায়িত্বে ছিলেন, সব জায়গাতেই নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিজেকে দলীয় কর্মী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আইনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতেন নোমান।

গণঅভ্যুত্থানের পর পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন নিজেকে যুবদল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দুই নেতার নিকট আত্মীয় বলে প্রভাব বিস্তার করছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত হিসবে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বিজয় নগর থানার ওসি তদন্ত থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়িত করা হয় ওসি নোমানকে। সে থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি।
মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগো ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর ওসি নোমানকে বিজয়নগর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। জানা যায়, তৎকালীনসময়ে ওসি ফয়জুল আজিম নোমানের শয়ন কক্ষের বিছানার নিছ থেকে ৩৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

সবশেষ ৩ আগস্ট ভোররাতে জায়লস্কর ইউনিয়নের খুশিপুরে একটি খামার থেকে ৫টি গরু চুরি হয়। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক।
গেল ১ আগন্ট রাত নয়টার দিকে দাগনভূঞা বাজারের ফাজিলেরঘাট রোডে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে থানায় যান কৃষকদলের দাগনভূঞা পৌর আহবায়ক শওকত আলী শহীন, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আইয়ুব আলী নিরব ও ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক নিহাদ। এসময় প্রতিকার চাইতে গিয়ে ওসির অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুনতে হয় তাদের। এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ওসি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষযকমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন বলেন, ওসির প্রত্যক্ষ মদদে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ইন্ধন দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দদের সন্মানহানি যেন ওসির রুটিনে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আকবর হোসেন।
আদালতের আদেশ নিয়ে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন আদেশের কাগজ হাতে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *