আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দাগনভূঞায় সংঘর্ষে আহত ২০
বিশেষ প্রতিনিধি

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ রোডে এ সংঘর্ষ হয়।
আহতরা হলেন- রাজিব, মানিক, জাবেদ, মিরাজ, সোহেল, হৃদয়, সাদ্দাম, মামুন, পারভেজ, জিতু, জনিসহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান , দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর থেকে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এক পক্ষ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ভাই ও দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনের অনুসারী। অন্য পক্ষ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের অনুসারী।
রোববার আকবর হোসেনের অনুসারী ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হলে কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পাকিস্তান বাজার থেকে শুরু হয়ে দাগনভূঞা বাজার ও ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজ রোড পর্যন্ত প্রায় একঘণ্টা সংঘর্ষ চলে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন অভিযোগ করেন, ‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিছিল বের করলে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ফটিকের নেতৃত্বে তার লোকজন হামলা চালায়। পরে তারা ছাত্রদল নেতা জাবেদের বাড়িতেও হামলা চালায়। এতে ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন।’
জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি কাজী জামশেদুর রহমান ফটিক বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির বিতর্কিত কমিটিকে কর্মসূচি না পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে মিছিল বের করলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এরপর তাদের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলি ছোড়ে, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করে।’
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, ‘সংঘর্ষের পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
