ফেনীতে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মা নিহত , বাবা ও বোন হাসপাতালে ভর্তি , হামলাকারী গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিনিধি
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মা লাকি আক্তার (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বাবা ও বোন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই হামলাকারী ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১০ মে ) রাতে দাগনভূঞা উপজেলার একটি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে সে ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে তার মা লাকি আক্তারের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত হন লাকি আক্তার। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ সময় হামলায় আহত হন নিহতের স্বামী ও মেয়ে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে হামলাকারী ছেলেকে আটক করে এবং পরে থানায় নেওয়া হয়।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজুল আজিম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি এবং হামলাকারী ছেলেকে আটক করি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে মাদকাসক্ত ছিল এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত ছিল। পরিবার একাধিকবার তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করলেও সে পরিবর্তন হয়নি। এতে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত।
নিহতের এক প্রতিবেশী বলেন, “ছেলেটা অনেকদিন ধরেই নেশার সঙ্গে জড়িত ছিল। পরিবার অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাকে ফেরানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল।”
এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদকাসক্ত তরুণদের কারণে পারিবারিক সহিংসতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে, যা সামাজিকভাবে গভীর উদ্বেগের বিষয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী।

