জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও দখলের চেষ্ঠা

মো: শাহআলম

ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর চৌধুরী পাড়ায় সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ভাংচুর করে দখলের চেষ্ঠা করছেন কথিত জামাত নেতা এমদাদ উল্লাহ চৌধুরী ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। সাংবাদিক পরিবারের বাড়ির প্রাচীর ভেঙ্গে গাছপালা কেটে দখলে নেয়, বসত বাড়ির রাস্তা ও ঘরে ঢোকার দরজায় ইট-বালিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম রেখে আটকে দিয়েছে। এমদাদ উল্লাহ চৌধুরী ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর ‘রোকন’ ও ফেনী পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড জামায়াতের একটি ইউনিটের আমীর।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াত নেতা এমদাদ দল বল নিয়ে একই পাড়ার সাংবাদিক পরিবারের বাড়ি ভাংচুর করে। ওই দিন ঢাকার খ্যাতিমান সাংবাদিক সোহেল হায়দার চৌধুরী ও পাভেল হায়দার চৌধুরীর গ্রামের বাড়ির প্রাচীরসহ বাগান বাড়ির প্রাচীর ভেঙ্গে ও গাছপালা কেটে দখলে নেয় জামায়াতের কথিত ‘রোকন’ এমদাদ। এ সময় সাংবাদিক সোহেল ও পাভেল দুই ভাই বাড়িতে ছিলেন না। পেশাগত কাজে ঢাকায় অবস্থান করেন। দুই সহোদরের বৃদ্ধ মাতা বাড়িতে ছিলেন। তিনি বাঁধা দিলেও প্রতিপক্ষ তা মানেননি। দলবলসহ এমদাদ তাদের মাতাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি ধমকী দেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আরেক দফা ভাংচুর করে দখল করা জমির উপর ঘর বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করে দেয়। এ পরিস্থিতি বার বার নিষেধ করা স্বত্ত্বেও এমদাদ গংরা কোনো নিষেধই শেনেননি। জামায়াতের রোকনের প্রভাব খাটিয়ে দখলীয় জমির উপর স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। শুধু তাই নয়, কথিত ‘রোকন’ দাবি করেন, ক্ষমতা এখন আমার। তোমার ছেলেদের আসতে বল! উপায় না দেখে আইনের আশ্রয় নেন সাংবাদিক পাভেল হায়দার চৌধুরী।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ফেনী জেলার ডিসির অধীনে থাকা অতিরিক্ত ম্যাজিস্টেট (এডিএম) আদালতে ১৮৪/২৫ একটি পিটিশন দাখিল করে সাংবাদিক পরিবার বিচার প্রার্থী হন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট থানাকে দায়িত্ব দেন। সে অনুযায়ী স্থায়ী আবাসন গড়ে তোলার কাজ বন্ধ রাখতে অনুরোধ করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। এরই মধ্যে আদালতের রায়কে টেম্পারিং করে, অন্ধকারে রেখে প্রতিপক্ষ এমদাদ উল্যাহ গত ১৬ মার্চ কাজ করার অনুমতি নিয়ে আসেন। অনেকটা অবৈধ কায়দায় রায় আনার কারণ জানতে পেরে সাংবাদিক পরিবার এডিএম কোর্টের ধারস্থ হন এবং আদালতকে টেম্পারিংয়ের বিষয়টি অবহিত করেন। সেটি বিবেচনায় নিয়ে আদালত আবারও থানাকে শান্তি রক্ষার দায়িত্ব দেন। এখন সাংবাদিক পরিবারের অন্য সদস্য ও বৃদ্ধ মাতাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে চলেছেন। মামলা তুলে না নিলে অমুক তমুক করবেন বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ভুঁইফোঁড় কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেইচবুক) ‘ম্যানেজ’ করে সাংবাদিক সোহেল হায়দার চৌধুরী ও পাভেল হায়দার চৌধুরীর বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ পরিবেশনের আশ্রয় নেয় এমদাদ গংরা। সেখানে প্রতিপক্ষ মনগড়া ভাবে দাবি করে, সাংবাদিক পরিবার আওয়ামী লীগ করে এবং ক্ষমতা খাটিয়ে প্রতিপক্ষর উপর অত্যাচার-নির্যাতন করে যার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিক পরিবারের বসত বাড়ির রাস্তা ও ঘরে ঢোকার দরজায় পতিপক্ষ এমদাদ গংরা ইট-বালিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম রেখে আটকে দিয়েছে। ঘরে ঢোকার রাস্তা মুক্ত করে দিতে এমদাদ গংদের বার বার অনুরোধ করা হলেও তা রক্ষা করা হচ্ছে না। এই নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নের আশংকা দেখা দিয়েছে।
এমদাদ উল্যাহরা সোহেল ও পাভেলকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করলেও এটার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সোহেল ও পাভেলদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সারা দেশের কোথাও দলের কোনো পদপদবীতে সাংবাদিক পরিবারের কারো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
মামলার সুত্রে জানা যায়, এমদাদ উল্যাহ গংরা প্রতিপক্ষ সাংবাদিক পরিবারের কোনো রকম কোনো সম্পর্কের না হলেও ২০১৫ সালে বসতবাড়ি নির্মাণ করার সময় মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেন। সেই মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর সাংবাদিক পরিবারের ওয়ারিশীয়, মুরুশিয় ও খতিয়ানভুক্ত জমির উপর সমান ভাগ দাবি করে বন্টন মামলা ১০৭/২১ দায়ের করেন। মামলার একটু অগ্রগতি হলে আরেকটি অংশকে প্রতিপক্ষ করে মামলাকে পিছিয়ে আনেন। এভাবে গত ৯ বছর হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন সাংবাদিক সোহেল ও পাভেল হায়দারের পরিবার। এমদাদ গংরা এ সম্পত্তির বৈধ কোনো দাবিদার না হলেও একের পর এক মামলা করে দেড় দশক হয়রানি করে চলেছেন। হয়রানির শিকার হলেও সাংবাদিক পরিবার আইনীভাবে মোকাবিলা করে আসছেন।
বন্টন মামলার তফশিলভুক্ত সম্পত্তি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ও জামায়াতের ‘রোকন’ দাবি করে সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি করে চলেছেন। আদালতের রায় অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর জমিতে কাজের বিশেষ অনুরোধ ও সামাজিক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও জামায়াতের রোকন এ প্রভাব খাটিয়ে এমদাদ উল্যাহ গংরা অন্যায়, অনিয়ম ও অনৈতিক আশ্রয় নিয়ে প্রতিপক্ষ সাংবাদিক পরিবারের বসত বাড়িসহ অন্য জমি দখলে নিতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
এমদাদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ১৯৯২ সালে ঐ জায়গাটা আমরা খরিদ করি। গত ১৬ মার্চ মামলাটা আদালতে খারিজ হয়। তাই আমরা বাড়ীর সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দখল করি। জোর করে সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দখল করাটা আইনী প্রক্রিয়া কিনা জানতে চাইলে তিনি তার সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ ব্যাপারে পাভেল হায়দার চৌধুরী বলেন, উক্ত জায়গাটি আমাদের পৈত্তিক সম্পতি। আমাদের বাড়ীর সীমানায় দখলীয় বাগান। ৫ আগষ্টের পর তারা জোর করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে তা দখল করে। এ ব্যাপারে আমরা আদালতে মামলা করেছি।
আইনজীবী এডভোকেট মাসুদুল অবেদীন বলেন, আমরা আদালতে মামলা করলে তারা আমাদের না জানিয়ে টেমপারিং করে তারা রায় নিজেদের পক্ষে নেয়ার চেষ্ঠা করে। তাদের ক্রয়কৃত ৮ শতক দখলে থাকলেও তারা এখন আরো ১৩ শতক অতিরিক্ত দাবী করে জোর পূর্বক দখলের চেষ্ঠা করে।
ফেনী জেলা জামায়াতের সাধারন সম্পাদক আবদুর রহিম মানিক বলেন, দলীয় পদপদবি ব্যবহার করে কারো অপরাধ করার সুযোগ নেই। যদি কেই করে থাকে আমাদের জানান, আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।
উল্লেখ্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী সাংবাদিক নেতা হিসাবে সারা দেশে সুপরিচিত। পাভেল হায়দার চৌধুরী একটি জাতীয় দৈনিকের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় কর্মরত আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *