জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

ফেনীতে তারেক রহমান,সংস্কার দীর্ঘায়িত হলে সংকটে পড়বে দেশ,নতুন করে ষড়যন্ত্র শরু হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি

সংস্কার নিয়ে আলাপ-আলোচনা যত বেশি দীর্ঘায়িত হবে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনি সরকার প্রয়োজন। নির্বাচন যত বিলম্ব হব দেশ তত বেশি সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, বিএপিকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমরা যদি সংস্কারের আলোচনা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করতে থাকি, তাহলে যে স্বৈরাচারকে দল-মত নির্বিশেষে সবাই বিতাড়িত করেছি-তারা সুযোগ পেয়ে যাবে। আবার দেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসবে তারা। তাই যেসব বিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তি সংস্কারের কথা বলছেন তারা দয়া করে এই আলাপ দীর্ঘায়িত করবেন না।

বুধবার বিকালে সোনাগাজী সাবের পাইলট স্কুলে মাঠে বিএনপি আয়োজিত এক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার গঠন করে হাসিনাকে ও তার দোসর দেরকে বিচারের মুখমুখো করতে হবে। জনগণের সরকার গঠন না হলে দেশে ন্যায়বিচারক প্রতিষ্ঠা হবে না।


তারেক রহমান বলেন, ‘সংস্কারের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সবার আগে নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনের মাধ্যমে যাদেরকে জনগণ দায়িত্ব দেবে তারাই সংস্কার কাজ শুরু করবেন। কারণ যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন তারা জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ থাকবেন।’


তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। এটা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। কোনো কোনো ব্যক্তি বলেন যে, নির্বাচন হলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? আমি বলি, সঙ্গে সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটের মাধ্যমে, জনগণের রায়ের মাধ্যমে যে দল, যে ব্যক্তি বা যারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবেন, তাদের মাধ্যমে সমস্যার গিট্টুগুলো আস্তে আস্তে খোলা যাবে।


নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আজকে আমরা প্রতিজ্ঞা করি যে, দেশের মানুষ আমাদের সুযোগ দিলে প্রত্যেকে যে যার অবস্থান থেকে সংস্কারের ওয়াদা পূরণের চেষ্টা করব।এতে ফেনীর ৬ উপজেলার বিএনপিসহ ১১টি অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ফেনী,নোয়াখালী ও লক্ষীপুর জেলার ৫৮ জন শহীদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন।


আমার বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও ফেনী সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূয়া ও খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুল আওয়াল মিন্টু, অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, বরকত উল্যাহ ভুলু, জয়নাল আবেদীন ফারুক, মাহাবুব উদ্দিন শামীম, রেহেনা আক্তার রানু, বোলাল আহম্মদ, আবদুল লতিফ জনী, হারুনর রশীদ হারুন, রশিদুর জামান মিল্লাত, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, গাজী মানিক, কাউন্সিলর ইমাম উদ্দিন ভূয়া, নিহত মাসুদের মেয়ে মুনতাসীর মামুন সিনিয়র বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


তিনি বলেন, ‘সংস্কার যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে, দেশ তথা দেশের মানুষকে তত দ্রুত বিপদ থেকে রক্ষা করা যাবে। যে সংস্কার প্রস্তাব বিএনপি দিয়েছে, যে সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কমিশনগুলো তৈরি করে দিয়েছে যেটাই হোক না কেনো, সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন ছাড়া কোনো রাস্তা নাই। একটিই পথ নর্বাচন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *