অন্যান্যঅর্থনীতিজাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

জামায়াতের ১২টি আসনে নারী এমপি হচ্ছেন ?

গোলাম এতেশামুল হক বিপ্লব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয়লাভের পর এবার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী নির্বাচনে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে ।

বর্তমান সংসদীয় কাঠামো অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত ১১ থেকে ১২টি আসন পেতে যাচ্ছে। এই আসনগুলোতে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনে শীর্ষ অগ্রাধিকার পেতে পারেন আমিরের স্ত্রী আমেনা বেগম, যিনি আগেও সংসদে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সম্ভাব্য তালিকায় আরও রয়েছেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী হাবিবা রহমান এবং কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী। শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীদের পাশাপাশি দলের দক্ষ নারী নেত্রীদের নামও আলোচনায় রয়েছে।

সাংগঠনিক নেত্রীদের মধ্যে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের নাম শোনা যাচ্ছে। তালিকায় আরও রয়েছেন সাবেকুন্নাহার এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজ। জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, যোগ্য নারী নেত্রীদের পাশাপাশি যেসব এলাকা থেকে দলটির কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি, সেসব অঞ্চলের নেতৃত্বদানে সক্ষম নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্রাথমিক তালিকা ইতিমধ্যে দলের আমিরের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এটি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে উপস্থাপন করবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতার পাশাপাশি ভৌগোলিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে সংরক্ষিত আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার একটি প্রস্তাব রয়েছে। যদি আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তবে জামায়াত ২৪টি আসন পেতে পারে, যা দলটির প্রার্থী নির্বাচনের পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করবে। তবে বর্তমান কাঠামো বজায় থাকলে প্রাপ্ত ১১-১২টি আসনের ভিত্তিতেই তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *