অন্যান্যক্যাম্পাসজাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র দাগনভূঞা, সাংবাদিক ও পুলিশসহ আহত ৪৫

বিশেষ প্রতিনিধি

দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষীকির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ফেনীর দাগনভূঞা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই গ্রুপের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার বিকেল (০২ সেপ্টেম্বর) ৫টার দিকে উপজেলা সদরের আতাতুর্ক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন ও ফেনী জেলা ছাত্রদলের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
এতে গুরুতর আহত হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেন ও তার স্ত্রী সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা হুদন, বিএনপি নেতাসাইফুল ইসলাম দুলাল, তার স্ত্রী মহিলা দলের নেত্রী জাহানার বেগম, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, বাকি বিল্লাহ, শ্রমিকদল নেতা বাদশা, রিজন, সেচ্ছাসেবক দলের শুক্কুর ও দাহনভূঞা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন সুজন আহত হন। এছাড়া জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের রাব্বি, রিয়াজ, রায়হান, নাঈম ও হুমায়ুন আহত হন। এরমধ্যে দুলাল, সুজন ও রাব্বি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার মধ্যে সুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে পুরিশ ছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ফখরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন টিপু, এম রহমান সোহেল ও আবদুল্লাহ আল মামুনও আহত হন।

প্রক্ষদর্শীরা জানান, আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় অডিটরিয়ামে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আকবর হোসেন নেতাকর্মীরামহ বের হলে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থান নেয়া ফটিক গ্রুপের কর্মীরা ভূয়া ভূয়া শ্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় একরপক্ষ অন্য পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির কয়েকজন নেতা চেষ্টা চালান। এরমধ্যে ফটিক ও তার ভাই পলাশ তাদের কর্মীদের নির্বিত্ত করার চেষ্টা ছিলো লক্ষনীয়। এর আগেঅনুষ্ঠান ঘিরে দুপুর থেকেই দুই গ্রুপের কর্মীরা ভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়নি। এদিকে, সংঘর্ষে আহতরা চিকিৎসার জন্য গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে ফটিক গ্রুপ সেখানেও হামলার অভিযোগ উঠে। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে আকবর গ্রুপের কয়েকজনকে উদ্ধার করে।
এদিকে আকবর হোসেন জানান, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষে বের হলেই তাকে স্ত্রীসহ হত্যার উদ্দ্যেশে এ হামলা করা হয়। বিনা উস্কানিতে ফটিকের লোকজন হামলা করে।
এক বছর আগেও ৫ আগস্ট দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *