পরশুরামে গণধর্ষণ নয় পতিতাবৃত্তি’র টাকা নিয়ে বিরোধ
গাজী মাসুদ রানা
ফেনীর পরশুরামে খদ্দেরের কাছ থেকে চুক্তির টাকা না পেয়ে এক নারীর থানায় মৌখিক অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গণধর্ষণের’ অসত্য তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতে চালানো অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অনৈতিক কর্মকান্ডের লেনদেন ও পাওনা টাকা না পাওয়ার আসল ঘটনা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফেনী-পরশুরাম সড়কের হাসপাতাল রোডে সিএনজি ও অটোরিকশার টোল আদায়কারী লাইনম্যান ইমনের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরশুরামে আসেন খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা নুরজাহান (ছদ্মনাম)। তাকে প্রথমে ইমনের বন্ধু ইসমাইল হোসেন শুভর সরকারি কলেজ রোডস্থ ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে কোলাপাড়া যুগীগ্রামের একটি ভাড়া বাসার কক্ষে তাকে রাখা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ওই নারী পরশুরাম মডেল থানায় হাজির হয়ে জানান, শুভর স্ত্রী লিমা আক্তারের মাধ্যমে তিনি ইমনের কাছে এসেছিলেন। লিমার কাছে তার পূর্বের ১৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকা উদ্ধারের জন্যই তিনি পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই নারী বলেন, “আমার পাওনা ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করে দিলে আমি চলে যাব। আমি ধর্ষণের শিকার হইনি।”
নারীর অভিযোগের পর পুলিশ সিএনজি লাইনম্যান ইমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালালেও সে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ইসমাইল হোসেন শুভ ও তার স্ত্রী লিমা আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। থানা হেফাজতে লিমা আক্তার ওই নারীকে ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করলে এবং লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য প্রদানের পর ভুক্তভোগী নারী নিজ গন্তব্যে ফিরে যান। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে আটক লিমা ও তার স্বামী শুভকে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আটক লিমার বাবার বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদীতে। তার মা তাহেরা বেগম ফেনী শহরের মাস্টার পাড়া এলাকায় অনৈতিক কাজের (পতিতাবৃত্তি) সাথে সম্পৃক্ত। সেই যোগসূত্র ধরেই তাহেরা বেগম ওই নারীকে ইমনের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাফুল ইসলাম জানান,
খদ্দেরের কাছ থেকে চুক্তিকৃত টাকা না পেয়ে ওই নারী থানায় এসেছিলেন। ধর্ষণের কোনো অভিযোগ তিনি করেননি। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে অনলাইনে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। ওই নারীর লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং আটক লিমা ও তার স্বামী শুভকে ২৯০ ধারায় গণ উপদ্রব সৃষ্টি করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপরাধে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার মূল হোতা লাইনম্যান ইমনকে গ্রেপ্তার এবং আটক দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এলাকার এই অনৈতিক চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

