অন্যান্যআন্তর্জাতিকজাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

ফেনীর ফুলগাজীর বিএনপি নেতা ইমান মাদকসহ সৌদি আরবে আটক ৫

বিশেষ প্রতিনিধি


ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ ওরফে ইমান আলী সৌদি আরবে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক হয়েছেন।
১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি তার স্ত্রী ও বোন-ভগ্নিপতিসহ মোট চারজনের একটি দলে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা কালে সৌদি বিমান বন্দরে তিনি আটক হন। সৌদি আরবের এয়ারপোর্টে প্রবেশের পর নিরাপত্তা বাহিনী (এফ-আই) তল্লাশিকালে ইমান আলীর ব্যাগ থেকে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয়। পরে তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক করে সৌদি পুলিশ।
স্থানীয় গ্রামবাসি,তার পরিবার ও প্রবাসী সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইমান আলীসহ মোট পাঁচজন সৌদি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন ইমান আলীর জামাতাও, যিনি শ্বশুরকে রিসিভ করতে এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন।
এলাকাবাসী জানান, ইমান আলীর দুই ছেলে শাহিন ও আরাফাত প্রায় ১০-১২ বছর ধরে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা অবৈধ অর্থে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। বাবাকে দিয়েই মাদক বহনের পরিকল্পনা করা হলেও গ্রেফতারের খবর শুনে তারা আর সৌদিতে আসেনি।
ঘটনার পর ফুলগাজী জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে ইমান আলী ও তার পরিবার বহুদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। তারা সমাজের মানুষকে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে চুপ করিয়ে রেখেছিলেন। এখন বিদেশে ধরা পড়ায় তাদের আসল চেহারা প্রকাশ পেয়েছে। নাম প্রকাশ করা শর্তে একাদিক ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইমান আলী ও তার দুই ছেলেসহ পুরো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে ইমান আলীর বোন ও ভগ্নিপতি সৎ মানুষ হিসেবে সমাজে পরিচিত, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।
স্থানীয় বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুতাহের সাথে যুগান্তরের পক্ষথেকে তার মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক গ্রামবাসি বলেন আটকের ঘটনা স্বত্যতা রয়েছে বলে দাবী করে বলেন গ্রামের মানুষকে ভয়-ভিতি দিয়ে যাচ্ছে বলে মাসুষ মুখখুলতে নারাজ।
আটক আমান উল্লাহ ওরফে ইমান আলী নিকট জনদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কোন কথা বলতে রাজি নয় বলে জানিয়ে দেন।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন আমি এ বিষয়ে কোন কাগজ পাইনি। লিখিত কাগজ পেলে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *