সোনাগাজীতে শিশুর হাতে খেলনা নয়, আসল বন্দুক ! এলাকায় চাঞ্চল্য
সোনাগাজী সংবাদদাতা
ফেনীর সোনাগাজীতে খেলনা বন্দুক নয়, এক শিশুর হাতে দেখা গেছে আসল আগ্নেয়াস্ত্র। এ ঘটনায় এলাকায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ।
ঘটনাটি ঘটেছে সোনাগাজী উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের চরবদরপুর গ্রামে। সম্প্রতি ওই গ্রামের হোসেন মাঝির বাড়ির বাসিন্দা সুজনের অল্পবয়সী সন্তানের হাতে বন্দুকধরা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ছবিটি প্রকাশ করেন শিশুটির সৌদি প্রবাসী মামা আসাদুর জামান নূর। নিজের নামের ফেসবুক আইডিতে তিনি ছবির ক্যাপশনে লেখেন, ‘এটা আমার বড় ভাগিনা। ওর হাতে এখন খেলনার নয়, আসল পিস্তল।’
পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি মুছে ফেললেও ততক্ষণে ছবিটি বহুজন সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
ঘটনা জানার পর প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন শিশুটির পিতা সুজন। তিনি বলেন, “ছেলেটা তখন শ্বশুরবাড়িতে ছিল। কে ওর হাতে বন্দুক দিয়ে ছবি তুলেছে জানি না। ফেসবুকে পোস্ট না হলে বিষয়টি জানতামই না।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার জন্য আমি লজ্জিত। আমার সন্তানের হাতে আসল বন্দুক তুলে দিয়ে ওর জীবনকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।”
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বন্দুকটি আসলে সুজনেরই। তাদের ভাষ্যমতে, পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্যালক আসাদুর জামান ক্ষোভ থেকে শিশুর হাতে অস্ত্রধারী সেই ছবিটি প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, সুজনকে এর আগেও ওই বন্দুক হাতে দেখা গেছে। কিন্তু তার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন বলেন, “আমার শ্যালক মানসিকভাবে অসুস্থ। দেশে থাকতে নানা উল্টোপাল্টা কাজ করত, এখন প্রবাসেও তা করছে।”
তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও আসাদুর জামান নূরের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, “ঘটনাটি এখনো পুলিশের নজরে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে, সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

