টঙ্গীতে নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে যুবতীর মৃত্যু: প্রটেকশন না থাকায় দুর্ঘটনা

বিশেষ প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার পাশে নির্মাণাধীন নূর ফ্যাশন ভবনের সাত তলা থেকে দেয়াল ধসে কাদের মুক্তারের ভাড়া দেয়া বাসায় পড়ায় তানজিলা (১৫) নামে এক কিশোরী নিহত হয়েছে। তার মা কল্পনা বেগম (৩৫) গুরুতর আহত হলেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যায়।
দুর্ঘটনাটি ঘটে রবিবার
(২ ফেব্রুয়ারী) অনুমানিক বিকাল তিন টায় যখন তানজিলা তাদের ভাড়া বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ পাশের বহুতল ভবন নূর ফ্যাশনের দেয়াল ভেঙে টিনশেডের ছাদ ভেদ করে তানজিলার শরীরে পড়ে। এতে তিনি মারাত্মক আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তানজিলাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়, কিন্তু সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির নির্মাণকাজ পরিচালনায় রাজউকের কোনো নির্দেশনা মানা হয়নি। মোহর খাঁ নামে এক ব্যক্তি নূর ফ্যাশনের সাত তলার মালিকানা নিয়ে নিজ উদ্যোগে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কোনো দক্ষ প্রকৌশলী বা অভিজ্ঞ মিস্ত্রি ছাড়াই কাজ হচ্ছিল, ফলে দেয়াল ধসের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনটিতে কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়নি। নির্মাণকাজের আশপাশে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত নিরাপত্তা বা প্রটেকশন না থাকায় যে কোনো মুহূর্তে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত মোহর খাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি ‘খান ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সেন্টার’ পরিচালনা করেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,”ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। ভবন নির্মাণে অনিয়ম এবং অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহত তানজিলার মা কল্পনা বেগম ছিলেন এক সংগ্রামী নারী। স্বামীর সঙ্গে সংসার না টিকলেও তিনি মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরে গার্মেন্টসে কাজ করতেন। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে তিনি এখন পাগলপ্রায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই নির্মাণ ত্রুটির জন্য দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, নির্মাণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে।
সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারি এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
