পরশুরামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১৫
বিশেষ প্রতিনিধি ফুলগাজী
পরশুরামে বিএনপি’র ফেনী-১ আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর ব্যানারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অর্থিক সহয়তা প্রদানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত। বৃহস্পতিবার রাতে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামে ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় দুটি গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সুবার বাজারে দুই গ্রুপের মহড়া চলে। এসময় ছবি তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয় এক সাংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন কেঁড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার হুমকি এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মী।
স্থানীয় সূত্রেজানায় বৃহস্পতিবার বিকালে মির্জানগর ইউনিয়নের মধুগ্রামে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম দাউদ এর নেতৃত্বে এবং পরশুরাম উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আবছার এর সঞ্চালনায় বিএনপি’র ফেনী-১ আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর ব্যনারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তকে নগদ টাকা প্রদানে অনুষ্ঠান চলাকালে উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম সরকারের নেতৃত্বে ইউনিয়ন যুবদলের স্থানীয় আরেকটি গ্রুপ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এসময় তারা অনুষ্ঠান স্থলের চেয়ার ভাংচুর করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এতে ইউনিয়ন যুবদল ও ছাত্রদলের ৫ জন ইমন,আইয়ুব, রাব্বি, শাহাদাত, লিমন নেতাকর্মী আহত হয়। রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুবার বাজারে দুই গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এসময় সুবার বাজারে একাধিকবার দুই গ্রুপের মুখোমুখি সংঘর্ষে সেলিম সরকার গ্রুপের শাহিন, দিদার, আবুল হাশেম, রণি আলামিন, মোবারক, রাজন,সোহেল সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয় বলে অভিযোগ ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো: শাহজালালের।
উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আবছার জানান, আমরা মজনু ভাইয়ের ব্যনারে ওনার পক্ষে মধুগ্রামে বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শান্তিপূর্ণভাবে নগদ অর্থ বিতরণ করছিলাম। এসময় উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম সরকারের সমর্থিত একটি দল আমাদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে হামলা চালায় এবং অনুষ্ঠান স্থলে চেয়ার ভাংচুর ও আমাদের দলীয় কয়েকজন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। রাতে তারা আবার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে সুবার বাজারে অবস্থান করে এবং আমাদের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীকে দাওয়া করে পরে আমাদের ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা মুখামুখি অবস্থান করলে তাদের সাথে সংঘর্ষ বাজে।
উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সেলিম সরকারের সমর্থিত গ্রুপের সদস্য ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো: শাহজালাল জানান, মধুগ্রামে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আবছার একজন ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠান করছিলেন। এসময় ওই ছাত্রলীগ নেতাকে দেখে আমাদের ছেলেরা প্রতিবাদ করে তবে সেখানে তেমন কিছুই হয়নি। যা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকে বিএনপির ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে দেখে তাদের সাথে বাকবিতন্ডায় হয়েছে কিন্তু তারা সেই ঘটনায় সুবার বাজারে পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলার প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের ছাত্রদলের প্রায় ১ ডজন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে আমাদের ছাত্রদল ও যুবদলের একাধিক নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে বাজারে অবস্থান করে।
পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল মনি যানান তুচ্চ ঘটনা নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মাঝে বাকবিতন্ড হয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয় নেতারা সমাধান করে দিয়েছেন। বিষয়টি বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু তালেব সহ অন্যান্য উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
পরশুরাম মডেল থানার (ওসি) শাহাদাত হোসেন জানান, সুবার বাজারে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের বিষয়ে জেনেছি তবে এই বিষয় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শুনেছি স্থানীয় বাজার কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ঘটনার সমাধান হয়েছে।
