Uncategorized

ভালো-মন্দের মানদণ্ড: কার ফ্রেমওয়ার্কে বিচার হবে?

লেখক : নাফিজ মোল্লা,

আমাদের সমাজে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, নৈতিকতা—এসব ধারণা কীভাবে গড়ে ওঠে? কে ঠিক করে দেয়, কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি বাতিলযোগ্য? ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, বিভিন্ন সভ্যতা, ধর্ম, মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের নৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। কিন্তু এই কাঠামোগুলো কতটা বৈধ বা সর্বজনীন?

নৈতিকতার উৎস: ধর্ম, রাষ্ট্র নাকি পশ্চিমা আধুনিকতা?

নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ইসলামে ন্যায়বিচার ও শাস্তি ব্যবস্থার নিজস্ব এক কাঠামো আছে, যা নির্দিষ্ট দণ্ডবিধির মাধ্যমে চলে। অন্যদিকে, পশ্চিমা উদারনৈতিক গণতন্ত্র মানবাধিকারের ভিত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কার নৈতিক কাঠামো প্রকৃতপক্ষে গ্রহণযোগ্য? ইসলামের দণ্ডবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কেন পশ্চিমা গণতন্ত্রের দণ্ডবিধি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে? যেমন, রাষ্ট্রের সহিংসতা বৈধ, কিন্তু ব্যক্তির প্রতিরোধ বেআইনি কেন?

পশ্চিমা নৈতিকতা: ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার?

আজকের বিশ্বে ‘ন্যায়বিচার’ ও ‘নৈতিকতা’র সংজ্ঞা মূলত ইউরোপের এনলাইটেনমেন্ট ও ঔপনিবেশিক যুগের চিন্তা থেকে উদ্ভূত। প্রশ্ন হলো, এই কয়েকশ বছরের ইউরোপীয় মানদণ্ড কেন সার্বজনীন বলে ধরা হবে?

যেমন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দিকে তাকালে দেখা যায়, একটি পক্ষের দখল বৈধ, কিন্তু অন্য পক্ষের প্রতিরোধ “সন্ত্রাসবাদ” বলে চিহ্নিত হয়। ঠিক একইভাবে, কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠী পশ্চিমা সমর্থন পেলে ‘বিপ্লবী’, আর না পেলে ‘জঙ্গি’। তাহলে এখানেও ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ড আসলে রাজনৈতিক ও সুবিধাবাদী।

নৈতিকতার প্রশ্নে দ্বৈতনীতি:

কিছু লোক দাবি করে, “আমি ধর্ম মানতে বাধ্য নই, কারণ তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।” কিন্তু তারাই আবার পশ্চিমা দর্শনের তৈরি নৈতিক কাঠামোকে প্রমাণ ছাড়াই গ্রহণ করতে চায়। যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতে হলে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা দরকার হয়, তবে ইউরোপীয় উদারনৈতিক মূল্যবোধের গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও কি একই প্রমাণ চাওয়া উচিত নয়?

ভালো-মন্দের সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে যে কোনো নৈতিক কাঠামো যাচাই করা জরুরি। কোনো মতাদর্শ, দর্শন বা আদর্শ কেবলমাত্র পশ্চিমা আধুনিকতা থেকে এসেছে বলে তা সার্বজনীন সত্য হয়ে যাবে না। বরং, যে কোনো ধারণার বৈধতা তার যুক্তি, বাস্তবতা ও কার্যকারিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।

এখন প্রশ্ন হলো, নৈতিকতার সার্বজনীন মানদণ্ড কি আদৌ সম্ভব, নাকি তা বরাবরই ক্ষমতা ও মতাদর্শের খেলা?

শিক্ষার্থী : বিএএফ শাহিন কলেজ কুর্মিটোলা, শ্রেণী: একাদশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *