ফেনীর ফাজিলপুর ওয়ালিয়া ফাযিল মাদ্রাসার দূর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিচালনা পরিষদ
শহর প্রতিনিধি
ফেনী সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফাজিলপুর ওয়ালিয়া ফাযিল মাদ্রাসার দূর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিচালনা পরিষদ। বুধবার বিকালে স্থানীয় একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করাহয়। দূর্নীতির লাগাম টানতে পরিষদ সদস্যরা কমিটির সভাপতি ফেনী জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদও করেছেন। একই সাথে তদন্ত কমিটি গঠন করে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুহাম্মাদ মাঈনুদ্দীন খোন্দকার ও শিক্ষক আহমদ উল্যাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছেন।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠকরেন পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ড.বেলাল উদ্দিনব আহম্মদ। এতে বলা হয় কমিটির সভাপতি অনুমতি ক্রমে রুপালী ব্যাংক,সোনালী ব্যাংক, অগ্রনী ব্যাংকে ও জনতা ব্যাংকে হিসাব পরিচালিত হয়। কিন্তু প্রিন্সিপাল মুহাম্মাদ মাঈনুদ্দীন খোন্দকার ও শিক্ষক আহমদ উল্যাহর নেতৃত্বে একটি চক্র এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে অর্থ লোপাট করার সিন্ডিকেট তৈরী করেছে, এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নষ্ট করেছে।
মাদ্রাসার নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব চলমান এবং কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত যার চেকের স্বাক্ষর করেন ফেনীর জেলা প্রশাসক গভর্নিং বডির সভাপতি। এই ব্যাংক হিসাব গুলো বিগত ৪৪ বছর থেকে চলমান যা সাবেক প্রিন্সিপাল মরহুম মাওলানা আব্দুল লতিফ সাহেব ও ফেনী জেলা প্রশাসক স্বাক্ষর করেছে।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় দুর্নীতিবাজ অর্থ লোভী, মিথ্যাবাদী বেঈমান প্রিন্সিপাল মুহাম্মাদ মাঈনুদ্দীন খোন্দকার এই মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকে গভর্নিং বডির অজান্তে এবং সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া সিন্ডিকেটের অপর সদস্য আহমদ উল্যাহ ও প্রিন্সিপাল মাঈনুদ্দিন খোন্দকারের স্বাক্ষরে ইসলামী ব্যাংক ফাজিলপুরের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় তিনটি অ্যাকাউন্ট ঘুলে টাকা লুট-পাট চালাচ্ছে। এ হিসাব খোলার বিষয়ে গভর্নিং বডির অনুমোদন এবং জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর নেই। উক্ত হিসাব গুলোতে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে। এ লুটপাটের সহযোগিতায় রয়েছে প্রিন্সিপাল মুহাম্মাদ মাঈনুদ্দীন খোন্দকারের ক্লাসমেট ও বন্ধু ফাজিলপুর ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার প্রধান এই মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র ডাঃ শাহাদাৎ যিনি এই সিন্ডিকেটের সদস্য।
তারা বলেন প্রতিবছর রমজানে যাকাত তহবিলে লক্ষ লক্ষ টাকা জমা হলেও এর কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। এছাড়াও আমাদের গভর্নিং বডির অন্য সম্মানিত সদস্য ও দাতা সদস্যগণ একই ভাবে যাকাত তহবিলে দান করে আসছেন। যাকাত দাতাদের কাছ থেকে যাকাত ফান্ডে অর্থ আদায় করা হয়েছে কিন্তু এর কোন সঠিক হিসাব বা তথ্য গভর্নিং কমিটির মিটিংয়ে উপস্থাপন বা অনুমোদন করা হয় নাই।
এ ছাড়া প্রত্যেক কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ফাজিলপুর ফরহাদ নগর এলাকা থেকে ৪০০ চামড়া মাদ্রাসায় দান করা হয়েছে এবং চামড়ার হিসাব কখনো কমিটির মিটিংয়ে উপস্থাপন করা হয় নাই। চামড়ার অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, সেটিও অজানা নেই।
৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর সরকার সমগ্র বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করে। সেই সুযোগে উক্ত সিন্ডিকেটের সদস্যরা গোপনে তাদের সুবিধা মত নাম দিয়ে কমিটির প্রস্তাব পাঠায় এবং যথা নিয়মে এডহক কমিটি অনুমোদন হয়। সিন্ডিকেটের লক্ষ্য এডহক কমিটি দিয়ে তাদের সকল অপকর্ম লুটপাটের হিসাব নিকাশ অনুমোদন করিয়ে জায়েজ করতে চেষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠানের কোন দাতা সদস্য ও পূর্বের গভর্নিং কমিটির কারো সাথে পরামর্শ না করেই গোপনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে কোন দাতা সদস্য বা সাবেক কমিটির কেউ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না বলে সিন্ডিকেটের সদস্য দুর্নীতিবাজ শিক্ষক, ও বহিরাগত কিছু সমাজের দালাল, ভূমি দখলদার, চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ী ও দাগী সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে মিছিল, সমাবেশ করেন। এবং ভাড়া করা সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, মাদ্রাসার নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকে এই সকল কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মনোনয়ন পত্র গ্রহণ ও জমাদানে বাধা সৃষ্টি করে সাবেক কমিটির কাউকে মনোনয়ন জমা দিতে দেয় নাই। এই সকল ঘটনা উল্লেখ করে আমি নিজেই ফেনী জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এবং নির্বাচন বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক এখনো কোন নির্দেশনা প্রদান করেন নাই। একই কায়দায় পুলিশ প্রশাসনের বরাবরেও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফেনীর জেলা প্রশাষক সাইফুল ইসলাম বলেন বিষয়টি তার জানানেই, তিনি খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

