তীব্র শীতে মধ্যরাতে উষ্ণতা বিলাচ্ছেন ফুলগাজীর ইউএনও তানিয়া ভূঁইয়া
জহিরুল ইসলাম রাজু
দেশ জুড়েই তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে ফেনীর ফুলগাজীতে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কনকনে হাড় কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। এসময় অসহায় ছিন্নমূল মানুষ যাতে শীতে কষ্ট না করে সেজন্য মধ্যরাতে পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের বস্তি ও রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা ছিন্নমূল শীতার্তদের গরমের উষ্ণতা দিতে কম্বল নিয়ে হাজির হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া ভূইয়া।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ত্রাণভান্ডার থেকে ফুলগাজী উপজেলা জন্য ৩ হাজারের বেশি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রত্যেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে প্রায় ৪০০ করে কম্বল বিতরণের জন্য দেয়া হয়েছে।
ইউএনও তানিয়া ভূঁইয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে গভীর রাতে ফুলগাজী বাজারের সেড ঘর, মুন্সিরহাট ও আনন্দপুর বাজারের সেড ঘর, এতিমখানা এবং বিভিন্ন স্থানে শুয়ে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও অসহায় ছিন্নমূল মানুষের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেন।
গভীর রাতে অপ্রত্যাশিতভাবে ইউএনও এর কাছে কম্বল পেয়ে অনেক ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষ তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। এ সময় ইউএনও তাদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের গায়ে গরমের উষ্ণতা দিতে কম্বল জড়িয়ে দেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া ভূইয়া, ‘ফুলগাজীতে হঠাৎ করেই ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত জেঁকে বসেছে। এই ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে গরমের উষ্ণতা দিতে মধ্য রাতে ঘুরে ঘুরে খেটে খাওয়া দিন মজুর ও ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ফুলগাজী বাজার, মুন্সিরহাট বাজার, আনন্দপুর বাজার সহ ভাসমান শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এসব শীতার্ত অসহায় মানুষ যাতে শীতে কষ্ট না করে সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমি যখন রাত্রিবেলায় গিয়েছি, আমার কাছে মনে হয়েছে আমি যা দিয়েছি তা অপ্রতুল। আরো বেশি সংখ্যক মানুষকে দিতে পারলে আরো ভালো হতো। ফুলগাজীর সমর্থ্যবানদের এই শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।’
আসুন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয়ই নিঃস্বার্থভাবে অসহায় বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্য ও সেবা করা মহৎ ও পুণ্যময় কাজ। শীতের তীব্রতা মানবিকতার উন্মেষে হয়ে উঠুক উষ্ণ।

