জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

ফেনী ১ ও ২ আসনে নৌকা নিশ্চিত,৩ এ লাঙ্গলের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই স্বতন্ত্র

যতন মজুমদার

ফেনীর তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যটিতে শরিক জাতীয় পার্টির এক প্রার্থী রয়েছেন। নৌকার দুই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রচারণা সীমাবদ্ধ কিছু পোস্টার। এলাকায় পথসভা, উঠান বৈঠক কিছুই নেই। তাই ওই দুটি আসনের নৌকার প্রার্থীরা জয়ের বিষয়ে অনেকটা ‘নিশ্চিত ‘ রয়েছেন বলে মনে করছেন এলাকার সাধারণ ভোটাররা। দুই নৌকার প্রার্থীর মধ্যে ফেনী ১ আসেন প্রার্থী আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও তার পরিবার এবং দলীয় কর্মীদের প্রচার-প্রচারণা থেমে নেই। তাঁরা ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করছেন।

এদিকে জেলার অপর আসনটিতে নির্বাচনী প্রচার- প্রচারণার মধ্যে স্ত্রীকে নিয়ে ওমরা পালন শেষে ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। ফেনী-২ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে নিজাম উদ্দিন হাজারীকে।

আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ছিলেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন। তিনিও তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রায় সব জায়গায় প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা গণসংযোগ, পথসভা, করে চলছেন। ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি জাল ভোটে নির্বাচিত হতে চাই না।’ ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে যাকে ইচ্ছে তাকে ভোট দিতে অনুরোধ করছেন তিনি।

আসনটিতে এবার মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আলাউদ্দিন আহমেদ ছাড়া বাকিদের তৎপরতা একেবারে নেই।

ফেনী-১ আসনে ১৯৭৩ সালে সাংবাদিক এবিএম মূসা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। এরপর আসনটি আওয়ামী লীগের হাতছাড়া হয়ে যায়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নৌকার

প্রার্থী জিতলেও তিনি ছিলেন জোটের শরিক দল জাসদের নেত্রী।

ফেনী-২ আসনের নৌকার প্রার্থী নিজাম উদ্দিন হাজারী ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার দলের টিকিটে সংসদ সদস্য হন। তিনি এবার তৃতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

সোমবার বিকেলে ফেনী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে নিজাম উদ্দিন হাজারীর নৌকা প্রতীকের পক্ষে সমাবেশের আয়োজন করে ফেনী পৌর আওয়ামী লীগ। পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে জড়ো হয় সমাবেশে। এতে মাঠ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে একপর্যায়ে কলেজ রোডে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

নিজাম উদ্দিন হাজারী বলেন, তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার প্রায় সব এলাকায় গিয়েছেন। গণসংযোগ করেছেন। মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন।

তিনি আশা করেন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাঁকে ভোট দেবেন। এরপরও তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে অনুরোধ করছেন।

ফেনী-২ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট প্রতিদ্বন্দ্বী আটজন। যদিও প্রচারণা জোরেশোরে কেবল চলছে নিজাম উদ্দিন হাজারীর।

ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে প্রার্থী রয়েছে ১০ জন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর জন্য নৌকার প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য রহিম উল্যাহ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় উপকমিটির সদস্য এ কে আজাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসনটিতে লড়ার কারণে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কিছুটা চাপের মুখে রয়েছেন।

শুরু থেকেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তবে শনিবার তিনি স্ত্রীসহ ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। ওমরা শেষে তিনি মঙ্গলবার সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *