অন্যান্যআন্তর্জাতিকজাতীয়রাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

খাগড়াছড়ির অশান্তি নিয়ে দিল্লি-ঢাকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি কয়েকদিন ধরেই অশান্ত। এর পেছনে বহিরাগত প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম। গত সোমবার তিনি বলেন, “ভারত কিংবা ফ্যাসিস্ট শক্তির ইন্ধনে এ অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।”

তবে শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দিল্লি এ অভিযোগ সাফ অস্বীকার করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আমরা এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। আর ব্যর্থতার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো তাদের পুরনো অভ্যাস।”

উল্টো ভারতীয় এই কূটনীতিক অভিযোগ তোলেন পাহাড়ি অঞ্চলের সংখ্যালঘুরা উগ্রবাদীদের হামলা ও ভূমি দখলের শিকার হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঢাকাকে আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং পাহাড়ি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও জমি দখলের ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে।”

এর আগে গত আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার অভিযোগ করেছে, ভারত থেকে বসেই তিনি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি অভিযোগ তোলেন ভারত ও সাবেক স্বৈরাচার শক্তি মিলে খাগড়াছড়িতে অশান্তি উসকে দিচ্ছে। যদিও দিল্লি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, খাগড়াছড়ির সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত একটি আলোচিত মামলাকে ঘিরে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর জেলার সিঙ্গিনালা এলাকায় এক কিশোরীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মামলা করলে পুলিশ সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করে। তবে পরে মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলেও এ ঘটনায় উসকানিমূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিয়ে শত শত ঘরবাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। ফলে খাগড়াছড়ি রূপ নেয় সহিংস অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *