জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

আমীরে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে ‘ ৭১এর অপরাধ শেষ ?

বিশেষ প্রতিনিধি

ক্ষমার ফেনা তুলতে তুলতে আমীরে জামায়াত ক্ষমা চেয়েই ফেললেন ৷ এর পরের ইস্যু কি?

ক্ষমা চাইলে কি হবে আমরা কি ক্ষমা করে দিয়েছি ??? যারা এতদিন ক্ষমার দাবি তুলেছেন তারাই এখন বলবেন ক্ষমা চাইলে তো হবে না, আমরা ক্ষমা করেছি কিনা সেটাও তো দেখতে হবে!!!

অথবা ইনিয়ে বিনিয়ে ক্ষমা চাওয়ার প্রক্রিয়া, ভাষা, অফিসিয়াল স্টেটম্যান্ট, আর কত প্যাচ বের হবে ! অপেক্ষা করুন !!

বায়তুল মোকাররমের সমাবেশে ১৯৯৪ সালে প্রফেসর গোলাম আযম সাহেবও জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন ! সেটা নিয়ে কোন আলাপ কখনো বিরোধীদের মুখে শুনেছেন?

আদতে “ক্ষমা” চাওয়াটা যে একটা রাজনৈতিক ইস্যু সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না ! অভ্যন্তরীন মানুষদের মুখেও বহু শুনেছি..ক্ষমা চাইলেই তো ইস্যুর কবর হয়ে গেল ! তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন ৷ প্রকৃতপক্ষে ইস্যুর কবর হবে না ৷ যুগে যুগে ইসলাম ও ইসলামী আদর্শকে দমন নিপীড়নে বহু ইস্যু র উপর ইস্যুর জন্ম হয়েছিল !

একবার ভাবুন তো বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী আন্দোলন ইখওয়ানুল মুসলেমীন এর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী কোন অভিযোগ বা ট্যাগ আছে? তারপরও পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত ইসলামী দলের নাম ইখওয়ান !
তিউনিসিয়ার আন নাহদা পার্টির এই জাতীয় ট্যাগ আছে? কিংবা তুরুস্কের ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কোন অভিযোগ ছিল? কিন্তু, তারাও নির্যাতিত ছিল বহুকাল !

নোট রাখুন পৃথিবীর সকল ইসলামী আন্দোলন যুগ থেকে যুগ নির্যাতিত বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া পৃথিবীর আর কোন ইসলামী দলের বিরুদ্ধে “স্বাধীনতা বিরোধী” অভিযোগ নেই ! তারপরও তারা কি মহা সুখে আছে ??

বাংলাদেশে “স্বাধীনতা বিরোধী” দল নেযামে ইসলাম পার্টি আজও আছে , তাদেরকে ক্ষমা চাইতে আজ অব্দি কেউ বলেছে? শুনেছেন কখনো? শুনবেন না, কারন তারা নিস্প্রভ ৷ তারা থাকলেও বিরোধীদের ক্ষতি নেই ৷

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব রাসুলে কারীম সঃ কেও কখনো “পাগল” কখনো “গনক” কখনো “কবি” বহু ট্যাগিং এ ট্যাগ করা হয়েছিল ! আদতে কাফিরদের উদ্যেশ্যে কি ছিল? রাসুলে সাঃ কে শুধু ট্যাগিং করা ? নাকি, অন্য কিছু !
আসল উদ্দেশ্যে কাফিররা রাসুলে কারীম সঃ এর আনিত বিধান ইসলামের পতাকাকে উড়তে দিবে না ,কারন ইসলামের পতাকা উড়লেই তাদের নেতৃত্ব শেষ ৷ তাই পারা রাসুলে কারীম সাঃ এর নেতৃত্বকে ধ্বংশ করতে চেয়েছিল ! তারা ব্যার্থ হয়েছে ৷

সমস্ত ইসলাম বিরোধী শক্তির মূল এজেন্ডাই এটা ইসলামের আলো নিবাতে হবে ! একই উদ্দেশ্যে যুগ যুগ ধরে ছিল ৷ আজও আছে ৷ আপনার কাছে জামায়াতে ইসলাম মানে শুধু একটি দল…কিন্তু, সমস্ত ইসলাম বিরোধী দেশী বিদেশী শক্তির কাছে জামায়াতে ইসলামী মানেই “ইসলাম” “ইসলামী শক্তি” এটুকু উপলব্ধি করতে না পারলে হয় আপনি বোকা না হয় আপনি “বোবা শয়তান ” ৷

সর্বশেষে আশার কথা হল প্রকৃত দ্বীনি আন্দোলন বিজয়ী হবেই হবে, ইন শা আল্লাহ ৷ কোন বিরোধী শক্তির অপপ্রচার কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রকৃত দ্বীনি আন্দোলনকে দমন করতে পারবে না ৷ ইন শা আল্লাহ ৷৷
দরকার খুলুসিয়াত, সর্বোত্তম চরিত্র, আমল এবং প্রজ্ঞার সাথে সাহসিকতা ৷৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *