জাতীয়প্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

রাতের আঁধারে বিচারকের আদেশ উধাও

সোনাগাজী প্রতিনিধি


সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চর খোন্দকার গ্রামে এবার আদালতের নির্দেশে লাগানো সাইনবোর্ডটি রবিবার (১৯মে)রাতে পেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর পূর্বে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধোর পুকুর ভরাট করে দুর্বৃত্তরা। ১৩ মে স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট ও সিনিয়ার জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সিরাজ উদ্দিন বিরোধপূর্ণ ওই জায়গায় সইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেন। রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা সাইনবোর্ডটি নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) তাসলিম হুসাইন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধোর পুকুর ভরাটের বিষয়টি তদন্ত করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার সম্মিলন (বামাস) এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুর ভরাট করার ছবি সোমবার (১৩ মে) দুপুরে পরিবেশ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। পরিবেশ আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সিরাজ উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধার পুকুরটিতে ভরাট কাজ বন্ধ করতে এবং সাইনবোর্ড স্থাপনের নির্দেশ দেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলার পুকুর ভরাটের ঘটনায় ৭ জনকে আসামি করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট পরিবেশ আদালতে গত ২৪ এপ্রিল মামলাটি দায়ের করেন ফেনী হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সম্মিলন (বামাস) এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নান্টু। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট পরিবেশ আদালতের বিচারক মোঃ সিরাজ উদ্দিন মামলাটি আমলে নিয়ে ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শওকত আরা কলিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড চর খোন্দকার গ্রামে ভূমিহীন অসহায় মানুষের থাকার ব্যবস্থা করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলা ভূমিহীন ৩০/৪০ পরিবারের জন্য পানির ব্যবস্থা করতে তার নিজস্ব ৪৮শতক ভূমিতে পুকুর খনন করেন। বর্তমানে ওই পুকুরটি দখল করতে ভূমিদস্যুরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছও মেরে পেলে। গত ১৭ এপ্রিল দুপুরে পুকুরে বেড়া দিয়ে মাটি ভরাট করে। ভূমিহীন পরিবারগুলো ভূমিদস্যুদের ভয়ে প্রতিবাদ করা সাহস পাচ্ছে না। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলার ছেলে এতেশামুল হক আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে সোনাগাজী আদালতের সহকারী জজ সাদিয়া খানম ওই জায়গার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সোনাগাজী মডেল থানার এসআই সাইদুল ইসলাম পিপিএম ঘটনাস্থল পরির্দশন করে সত্যতা পান। ভূমিদস্যুরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুকুর ভরাট করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকল্প কর্মকর্তা আমিনুল রশিদ মাসুদ চৌধুরী ২০১৬ সালে আফছার উদ্দিন মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল স্থাপন করেন। স্কুলের রাস্তা প্রসস্থ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মাওলার পুকুর ভরাট করে। এনিয়ে আদালতে মামলা চলছে। বর্তমানে স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ জন। ওই স্কুলের শৌচাগার নিমার্ণের জন্য ২৩-২৪ অর্থবছরে সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন থেকে ২ লাখ টাকা ও জেলা পরিষদ থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ছোট একটি কক্ষ করে ১০ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। যা পুকুর চুরিকে হার মানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *