অন্যান্যক্যাম্পাসজাতীয়তথ্যপ্রযুক্তিপ্রচ্ছদরাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

নুসরাত হত্যা: অধ্যক্ষ সিরাজসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহালরায়ে

গোলাম এতেশামুল হক বিপ্লব

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের দেওয়া ফাঁসির আদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) করে এবং আসামিদের আপিল খারিজ করে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারকদ্বয়ের বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এ রায় পাঠ শুরু করেন। রায়ে চার আসামির যাবজ্জীবন ও ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চটি গঠন করে দিয়েছিলেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

মামলার নথি ও বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের পরিবার থানায় আইনি পদক্ষেপ নিলে সিরাজ ও তার অনুসারীরা মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকি দেয়। নুসরাত নতি স্বীকার না করায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র মাদ্রাসা ভবনের ছাদে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে মুখ ও হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে টানা চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ছিলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসা ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *