জাতীয়রাজনীতিসর্বশেষসারাদেশ

আগুন দিয়ে পুড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় থানা মামলা

শহর প্রতিনিধি

ফেনী শহরের একটি বসতঘরে লাগানো আগুনে পুড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের সন্তানদের পিতা রনি ১৩ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৭জন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এম মর্মান্তিক ঘটনার ২৪ ঘন্টার পরও কোন আসামি গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানিয় লোকজন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ফেনী মডেল থানার ওসি শহিদুল ইলাম চৌধুরী মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চত করেছেন।

আসামি গ্রেফতারের সুবিধার কারণে পুলিশ মামলায় উল্লেখিত আসামিদের নাম প্রকাশ করতে রাজী হয়নি।


মঙ্গলবার মধ্যরাতে মধ্যম বিরিঞ্চি পচি ফকিরবাড়ির রনি হোসেনের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই ঘরের একটি কক্ষে শিশু দুটি ঘুমিয়ে ছিল। মারা যাওয়া এক শিশুর নাম মাইদুল ইসলাম শাহাদাত (১৩)। সে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আরেক শিশুর নাম রাহাদুল ইসলাম গোলাপ (৭)। সে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। সন্তানদের এমন মৃত্যুতে মা পলি আক্তার আর বাবা রনি পাগলপায়। বুধবার সকাল থেকে নিহতের শিশুদের মা পাগলের মত তাদের কবরে পড়ে ছিলো। পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা পেট্্রল ঢেলে ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।


স্থানীয় কয়েকজন জানান, রাতে খাবার খেয়ে রনি ও স্ত্রী পলি ঘরে এক রুমে আর তাদের দুই সন্তান মাইদুল ও রাহাদুল পাশের রুমে ঘুমি পড়ে। রাত ১টার দিকে দুই সন্তাদের রুমে আগুন দেখে রনি ও পলি চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তাদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর রনির বড় ছেলে মাইদুলের দগ্ধ লাশ খাটের ওপর থেকে আর ছোট ছেলে রাহাদুল ইসলামকে দগ্ধ অবস্থায় খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাহাদুলও মারা যায়। আগুনের কারণে ছেলেদের রুমের দরজা খুলতে পারেননি বাবা-মা। দরজাটি তাদের (বাবা-মা) রুমের সঙ্গে ছিল না। দরজাটি ছিল ডাইনিং রুমের সঙ্গে। বাঁচার জন্য দুটি শিশু অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের বাঁচানো যায়নি।


কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে তারা দেখেন বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে তার দিয়ে এমনভাবে বাঁধা, যাতে ভেতর থেকেই কেউ বের হতে না পারেন। এর থেকে ধারণা করা যায়, পরিবারের সবাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা বাড়ির দরজা আটকিয়ে রেখেছিল।
দুই শিশুর বাবা রনি বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে অনুমতি ছাড়া প্রতিবেশী জনি (বোমা জনি) আনোয়ার, বাদল, জয়নাল, ফারুক, আরাফাত তাদের এক স্বজনের লাশ দাফন করতে আসে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর থেকেই আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আমার ঘরে আগুন দিয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘চোখের সামনেই আগুনে পুড়ে আমার দুই সন্তান মারা গেল। আগুনের ভেতর থেকে বাঁচতে ওরা আর্তচিৎকার করে। কিন্তু শতচেষ্টা করেও আগুনের লেলিহান শিখা থেকে ওদের রক্ষা করতে পারিনি।’


খবর পেয়ে ওই রাতেই ফেনী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজররুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন এবং আপরাধী যে বা যারা তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল থোয়াই অংশুপ্রæ মারমা বলেন, থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে,আমরা দ্রæত ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তে মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *