ফেনীতে তদন্ত করতে গিয়ে যুবদল নেতার হামলার আহত ৩ পুলিশ
বিশেষ প্রতিনিধি
ফেনীর পরশুরামে একটি মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক উপপরিদর্শকসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে পরশুরাম পৌর এলাকার দক্ষিণ কোলাপাড়ার গুনাগাজী মজুমদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হচ্ছেন পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক মুন্না দে, কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম ও রুহুল আমিন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কোলাপাড়া গুনাগাজী মজুমদার বাড়ির নাসির উদ্দিনের স্ত্রী শেফালি আক্তার পারিবারিক বিরোধ ও মারধরের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবেশী বনবিভাগের উপজেলা রেঞ্জ অফিসে কর্মরত ফারুক মিয়া, তার ছেলে যুবদল নেতা রাজিব মজুমদার ও পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব এমাম হোসেন ফয়সালের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তদন্ত করতে তিন পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ফারুক। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফারুক ও তার ছেলেরা পুলিশকে ‘তোরা গুন্ডা নাকি’ বলে লাঠি ও ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে। এতে তিন জন আহত করে। এ সময় পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল ইসলামকে পিঠে ছুরিকাঘাতসহ তাদের পোশাক ছিঁড়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান।
আহত উপপরিদর্শক মুন্না দে বলেন, থানায় করা একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে গেলে বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় জড়িত ফয়সাল ও রাজিবের বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পরশুরাম উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা ও আহত পুলিশ জানায় হামলাকারীরা সকলেই স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল আলম মজনু বাহিনীর সদস্য এবং সীমান্তে চোরাকারবার এর সাথে জড়িত।
এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, পুলিশের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

