জাতীয়প্রচ্ছদসর্বশেষসারাদেশ

ছাগলনাইয়ার ট্যাংকি থেকে দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

মো: শাহআলম ছাগলনাইয়া থেকে

একটি নির্মানাধীন বিল্ডিং এর সেপটিক ট্যাংকি থেকে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগীতায় দুই শ্রমিকের মরদেহ  উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার ভোরে খবর পেয়ে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড পশ্চিম ছাগলনাইয়ার থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হল বাগের হাট জেলার কচুয়ার বাদাল গ্রামের সাংদিয়ার রবিন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে বিকাশ চন্দ্র দাস (২২) ও খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় করৈয়া বাজারের ছেরাজুল হকের ছেলে মহি উদ্দিন মঈন (৩৫)।

নিহত বিকাশের শ্বশুর দীপক চন্দ্র দাস ও মঈনের বায়রা সাইফুল জানান তারা পশ্চিম ছাগলনাইয়ার পুরাতন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে কুয়েত প্রবাসী সহিদ উল্যার ভবনে রাজমিস্ত্রীর প্রধান কামাল উদ্দিনের অধীনে কাজ করছিল। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে কাজে গেলে কামাল সহকারী বিকাশকে ভিতরে ডুকে সেপটিক ট্যাংকির ছাদ ঢালাই দেওয়া  সেন্টারিং এর কাঠ বাঁশ খুলে মঈনের মাধ্যমে উপরে তুলতে বলে।

দীর্ঘদিন ট্যাংকির মুখ ইট দিয়ে বন্ধ থাকায় ভিতরে গ্যাস জমে গেলে বিকাশ মুখ ভেঙ্গে নিচে নামা মাত্রই অজ্ঞান হয়ে যায়। মঈন তাকে উদ্ধার করতে নিচে নামলে মঈনের একই অবস্থা হয়। বিদ্যুতের শকের অনুমান করে কাউকে কিছু না জানিয়ে সাবঠিকাদার রাজমিস্ত্রি কামাল তার অপরাপর সহযোগীদের নিয়ে গা-ঢাকা দেয়। রাত পর্যন্ত বিকাশ ও মঈন বাসায় না ফিরলে তাদের পরিবার কামালের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজ চায়। কামাল তাদের বলে দুইজনকে পশ্চিম ছাগলনাইয়া কাজে পাঠানোর পর সেও জানেনা তাদের খোঁজ। 

পরে কামালের আরেক সহযোগী দুইজনের পরিবারকে গোপনে জানায় তারা সেপটিক ট্যাংকিতে ডুকলে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে মারা গেছে। 

শনিবার তাদের দুই পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উঁকি দিয়ে দেখতে পান দুইজনের নিথর দেহ দেখা যাচ্ছে। তাদের শোরচিৎকারে স্থানীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগীতায় ট্যাংকির মুখ বড় করে ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে।

থানার ওসি সুদ্বীপ রায় দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান ময়না তদন্তের জন্য লাশ গুলো ফেনী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই ব্যাপারে জানতে সাবঠিকাদার কামালকে খুঁজে না পেয়ে তার মোবাইলে কল দিলে ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়ির মালিক সহিদ স্বপরিবারে কুয়েতে অবস্থান  করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায় নাই। সহিদের আত্মীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান কামালকে তারা সাব ঠিকাদারী দিয়েছেন।

ছাগলনাইয়ার সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ালী উল্লাহ জানান ঘটনা তদন্তে পুলিশের তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *