বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আল্লাহর প্রজ্বলিত আলো প্রয়োজন -মামুনুল হক
শহর প্রতিনিধি
এতেশামুল হক বিপ্লব বিশেষ প্রতিনিধি ঃ বর্তমান সময়ে বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়ার একটি আওয়াজ উঠেছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষ বৈষম্যহীন সমাজ চান। সুন্দর ও একটি আলোকিত সমাজ গড়তে হলে আল্লাহর প্রজ্বলিত আলো প্রয়োজন। রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা করে শতশত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যা আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময়েও ছিল না। এখন মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাসূলের (সা.) শিক্ষা দেওয়া নীতির অনুসরণ করতে হবে। সবাই মিলে বর্তমান সমাজকে ভেঙে নতুন একটি সমাজ গড়তে চাই। রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা ছাড়া ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করা সম্ভব না । দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে শেখ হাসিনা সরকার ষড়যন্ত্র করেছে উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করছে একটি জাতির ভবিষ্যৎ। নরেন্দ্র মোদির দাসী সরকার শেখ হাসিনা এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় হিন্দুত্ববাদ ঢুকিয়ে ইসলামকে মুছে দিতে চেয়েছিল। আমরা কথা বললে আওয়ামী জাহেলিয়াতের সরকার সব সময় রুখে দিয়েছে। মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে মসজিদের নগরী ঢাকাকে তারা মন্দিরের শহরে রূপান্তর করার পাঁয়তারা করেছিল।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফেনীর মিজান ময়দানে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত শানে রেসালত সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধে প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল। গণহত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক।
তিনি আরও বলেন, আমরা অন্তর্র্বতীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করব। কারণ এ সরকার ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার নতুন করে আবির্ভাব হবে। আর সফল হলে ফ্যাসিবাদ এ দেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেবে। কিন্তু এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কেউ যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় নাস্তিক্যবাদ ঢুকানোর চেষ্টা করে, তখন আমরা ঘরে বসে থাকব না। শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কোনো ছল-চাতুরি এ দেশের মুসলমান মেনে নেবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হকে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিকদলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখনও ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্র চলছে। তাই সামনের দিনগুলোতে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। নয়তো যে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে, সেটা ছিনতাই হতে পারে।’
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দু বা অন্য ধর্মের সবাই যার যার ধর্ম সে পালন করবে। সুশৃঙ্খলভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রয়োজনে আলেম-ওলামা ও হেফাজতে ইসলাম এতে সহযোগিতা করবে। হিন্দুদের মূর্তি আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়। আমাদের আলোচনায় ছিল ব্যক্তির মূর্তি স্থাপনের বিষয়ে।
মামুনুল হক বলেন, এ দেশে কাদিয়ানীদের নিষিদ্ধ করতে হবে। তারা সংখ্যালঘুর মতো নিরাপত্তা নিয়ে বসবাস করুক তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু দেশের মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না। তাদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে। আল্লাহর নবীকে নিয়ে যদি কেউ কটূক্তি করে বা গালি দেয় তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ডের আইন প্রণয়ন করতে হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তা করব।
মামুনুল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মহান বিজয় কয়েক মাসের মধ্যে ছিনতাই করে নিয়েছে ভিনদেশি একটি রাষ্ট্র। বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং এই দেশের ৭ কোটি মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে ভিনদেশি আরেকটি রাষ্ট্রের সংবিধানের মূলনীতিগুলো কলমের খোঁচায় একটি প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের একটি নতুন চেতনা তৈরি করা হয়েছে। এর চেয়ে দুঃখের বিষয় হলো ১৯৭২ সালের চেতনাকে সবসময় বাংলাদেশের মানুষের কাছে ৭১ সালের চেতনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এইভাবে ৭২ সালের চেতনার মাধ্যমে ৭১ সালের চেতনাকে ছিনতাই করা হয়েছে। গত ৫০ বছর ধরে খুনি হাসিনা নিজ দলের নেতা-কর্মী ও দেশের মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।’
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আরও বলেন, বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মহাসচিব বলেন, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধে প্রমাণ করে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাই শুধু ছাত্রলীগ নয়, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেশে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানাই।’ এটাই এখন মানুষের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।‘ছাত্র-জনতার ওপর গণহারে যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে, এটা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। শুধুমাত্র ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বছরের পর বছর হত্যা, গুম ও খুন নির্যাতন চালিয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। এদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। ভারত কীভাবে হাজার হাজার মানুষ খুনের আসামি শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, এটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ভারতের প্রশ্রয়ে শেখ হাসিনা সেখানে বসে দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্র্বতী সরকারকে ব্যর্থ বানাতে পাঁয়তারা করছে। কিন্তু দেশের মানুষ কোনোভাবেই এটা মেনে নিবে না। অনতিবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে খুনি শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দেশে এনে বিচার করতে হবেই হবে।’
আল্লামা মামুনুল হক আরও বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা মূর্তি, ভাস্কর্য, বাবরি মসজিদকে কেন্দ্র করে আমার সঙ্গে যা করেছে তা সবাই দেখেছেন। ভারত সরকার সেবাদাসী শেখ হাসিনাকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছিল। মূর্তির বিরুদ্ধে কথা বলাতে শেখ হাসিনা নমরুদের মতো আচরণ করেছে। কিন্তু আমরা একত্ববাদের ওপর অটল ছিলাম। আলেমসমাজকে জেলে বন্দি, হত্যা করেও তারা ন্যায়ের পথ থেকে সরাতে পারেনি।
হেফাজতে ইসলাম ফেনী জেলার সভাপতি মাওলানা আফজালুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুকের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন- হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আবদুল হামীদ, মহাসচিব সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার, সিনিয়র নায়েবে আমির খলীল আহমাদ কাসেমী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী,সহকারী মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা নূর হোসেন নূরানী।
এ সময় হেফাজতে ইসলাম ফেনী জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

